লক্ষ লক্ষ ভিড় সামলাতে ড্রোনের নজরদারি! ২১ অক্টোবর বড়মাকে পুজো দিতে আসছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন বড়মা’র কাঠামো পুজোর মধ্য দিয়ে নৈহাটিতে শুরু হয়ে গেল কালীপুজোর প্রস্তুতি। এই বছর এই ঐতিহ্যবাহী পুজো ১০২ বছরে পা দিল। সবচেয়ে বড় খবর হলো, পুজোর পরের দিন অর্থাৎ ২১ অক্টোবর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বড়মাকে পুজো দিতে নৈহাটিতে আসছেন।

অভিষেকের সফরের আগে কড়া নিরাপত্তা
ভিভিআইপি সফর এবং লক্ষ লক্ষ ভক্তের ভিড় সামলানোর জন্য নৈহাটির অরবিন্দ রোডের এলাকাটি ইতিমধ্যেই সরজমিনে খতিয়ে দেখেছেন ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা। তিনি মন্দির কমিটির অফিসে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকও করেছেন। পুলিশ কমিশনার পায়ে হেঁটে গোটা এলাকা ঘুরে অভিষেকের আসার পথ এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করেন।

পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা জানিয়েছেন, “যেকোনও ভিআইপি-দের ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এটা নতুন কিছু নয়।” বড়মার পুজোর ভিড় সামলানোর জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে:

ড্রোন ও সিসিটিভি: নজরদারি চালাতে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি ড্রোনেরও ব্যবস্থা থাকছে।

ভিআইপি-সাধারণ মানুষ: ভিআইপি এবং সাধারণ মানুষ যাতে একসঙ্গে মায়ের দর্শন করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সমন্বয়: পুজো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রেল পুলিশ, পিডব্লিউডি, বিদ্যুৎ দফতর সহ সকলকে নিয়ে একসঙ্গে বৈঠক করা হবে।

মন্দির কমিটি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মায়ের কষ্টিপাথরের মূর্তিতেও পুজো দেবেন। যদিও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে প্রশাসনের তরফে তাঁর সফরসূচি নিয়ে এখনই প্রকাশ্যে মুখ খোলা হচ্ছে না।

রেকর্ড ভিড়ের আশঙ্কায় প্রস্তুতি
নৈহাটির অরবিন্দ রোডে এই ২২ ফুট উচ্চতার ঘন কালো কৃষ্ণবর্ণের কালী প্রতিমা পূজিত হন। শুধু বড়মা নয়, এই ব্যস্ত অরবিন্দ রোডে মোট সাতটি বড় কালীপুজো হয়ে থাকে। এখানকার চিরায়ত নিয়ম অনুযায়ী, জাগ্রত বড়মা’র প্রতিমা বিসর্জন না-হওয়া অবধি নৈহাটির অন্য কোনো কালীপুজোর বিসর্জন হয় না।

বড়কালী পুজো সমিতির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য জানান, ভিড়ের কথা মাথায় রেখে এই বছর কালীপুজোর সাত দিন আগে থেকেই পুজো গ্রহণ করা হবে। ১৩ অক্টোবর থেকে পুজো দেওয়ার কাউন্টার খোলা হচ্ছে।

তিনি নৈহাটিবাসীদের কাছে অনুরোধ জানান, পুজোর রাতে না এসে আগের দিন রাতে এসে পুজো দিয়ে যাওয়ার জন্য, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়। গতবারের মতো এবারও অনলাইনে পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে। কালীপুজোর দিন সুউচ্চ ‘বড়মা’কে সোনা ও রুপোর গয়না দিয়ে সাজানো হবে।