স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ছক কষা হয়েছিল জেলের ভেতরে! বরানগরে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে সামনে এল গুরু-শিষ্যের ‘অপরাধী’ যোগ

বরানগর শম্ভুনাথ দাস লেনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী শঙ্কর জানাকে খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ ইতিমধ্যেই সঞ্জয় মাইতি ও সুরজিৎ সিকদার নামে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। জানা যাচ্ছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাস্টারপ্ল্যান কষা হয়েছিল প্রেসিডেন্সি জেলের অভ্যন্তরে।
জেলবন্দি বিহারের দুষ্কৃতীর নির্দেশ
দমদম বেদিয়াপাড়ার বাসিন্দা সঞ্জয় মাইতি, একটি অপরাধমূলক মামলায় প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি ছিল। সেখানেই তার সঙ্গে বিহারের এক দুষ্কৃতীর পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জেলবন্দি ওই দুষ্কৃতীই সঞ্জয়কে ছোটখাটো কাজ ছেড়ে বড় ডাকাতির কাজে নামার পরামর্শ দেয় এবং সবরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেয়।
কয়েক মাস আগে জামিনে ছাড়া পেয়ে সঞ্জয় জেল থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর সে সুরজিৎ সিকদারকে সঙ্গে নিয়ে দমদম বেদিয়াপাড়া এবং সিঁথির মোড় সংলগ্ন অঞ্চল রেইকি করে। দুপুরের নির্জনতাকে কাজে লাগাতে শঙ্কর জানার দোকানকে টার্গেট হিসেবে ‘ফাইনাল’ করে সঞ্জয়। এই টার্গেট সম্পর্কে জেলবন্দি দুষ্কৃতীকেও সে অবগত করে।
ঝাড়খণ্ডের গ্যাং, পিছনের রাস্তা দিয়ে পলায়ন
বিহারের জেলবন্দি দুষ্কৃতীর নির্দেশেই ডাকাতির অপারেশন সফল করার জন্য ঝাড়খণ্ড ও জামশেদপুরের দুষ্কৃতীদের কলকাতায় আনা হয়। হামলার দিন সঞ্জয় বাইক নিয়ে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়েছিল এবং সুরজিৎ সিকদার দুষ্কৃতীদের দোকান চিনিয়ে দিয়ে সরে যায়। প্ল্যান অনুযায়ী, ডাকাতি ও খুনের পর দুষ্কৃতীরা পিছনের রাস্তা দিয়ে বেরিয়ে দমদম স্টেশনে ট্রেন ধরে পালিয়ে যায়।
সোনার গহনা বিক্রি হয় বরানগরেই
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজে সুরজিৎ সিকদারকে চিহ্নিত করে পুলিশ নারকেলডাঙার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। সুরজিৎকে জেরা করেই উঠে আসে সঞ্জয়ের নাম। ডাকাতির অধিকাংশ সোনার গহনা সঞ্জয়ের কাছেই ছিল। সঞ্জয়কে গ্রেফতারের পর তার কাছ থেকে পাঁচু সামন্ত নামে আরেক অভিযুক্তের নাম সামনে আসে।
জানা যায়, লুঠ করা সোনার গহনার বেশিরভাগই বরানগর ঘোষপাড়া এলাকার পাঁচুর কাছে বিক্রি করেছিল সঞ্জয়। গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেফতার করেছেন। পাশাপাশি, খুনের পর পালিয়ে যাওয়া দুষ্কৃতীদের মধ্যে দু’জনকে ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা এখন সঞ্জয়, সুরজিৎ ও পাঁচুকে এক জায়গায় বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন। লুঠ করা সোনার গহনা কেন পাঁচু কিনল এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড পূর্ব পরিকল্পিত কি না, সেই বিষয়ে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।