‘মমতার সময় শেষ!’ সাংসদকে হামলা নিয়ে কড়া বিপ্লব দেব, ‘বদলা হবে ছাব্বিশের ভোটে’, হুঙ্কার শুভেন্দু অধিকারীর

উত্তরবঙ্গে ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের ওপর হামলার ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া আক্রমণ করলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ বিপ্লব দেব। মঙ্গলবার শিলিগুড়ির বেসরকারি হাসপাতালে আহত নেতাদের দেখতে যাওয়ার পর তিনি জানান, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নিজের দায়িত্বটা জানেন না এবং পশ্চিমবঙ্গে তাঁর সময় শেষ হয়ে এসেছে।
বিপ্লব দেবের সঙ্গে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দেন।
মমতার বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ
বিজেপি নেতা বিপ্লব দেব অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের দায়িত্ব নিতে চান না। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়। বিপর্যয় ঘোষণা করার দায়িত্ব রাজ্যের, যা জেলাশাসকের মাধ্যমে করতে হয়। কিন্তু তিনি তা করেননি।”
বিপ্লব দেবের হুঁশিয়ারি: তিনি হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “বিজেপি সাংসদ, বিধায়কের উপর হামলা করা হলো। সাংসদকে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হলো। এসবই হচ্ছে রাজ্যের মদতে। তিনি তো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যাবেন। তাঁর সময় শেষ হয়ে এসেছে। ভারতে যাঁরা থাকবেন, তাঁদের ভারতের রীতিনীতি মেনে থাকতে হবে। আমি বিপ্লব দেব। আমি সবার নাম লিস্ট করে রাখি।”
আদিবাসী নেতার ওপর হামলা: তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “খগেন মুর্মু দু’বারের সাংসদ। তিনি আদিবাসী নেতা। এই আদিবাসীদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর ভালোবাসার এই নমুনা!”
হাইকোর্টে যাচ্ছে বিজেপি, দাবি NIA তদন্তের
শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “খগেন মুর্মুর এই রক্তে ছাব্বিশের নির্বাচনে বদলা হবে। বাংলা সুদ-সহ তা উসুল করবে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ঘটনার পদক্ষেপ হবে।”
আইনি পদক্ষেপ: শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামীকাল কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার মামলা করা হবে।
জঙ্গি যোগের সন্দেহ: তিনি এই ঘটনার এনআইএ (NIA) বা সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানান এবং বলেন, হামলাকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের জামাত ও আনসারুল্লার মতো নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠীর কোনো যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
বিজেপি নেতারা আরও জানান, তফশিল উপজাতি কমিশনের তরফে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে এই হামলার জবাব দিতে দিল্লিতে তলব করা হবে। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর হাসপাতালে গিয়ে খগেন মুর্মুর সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী আহত সাংসদকে তাঁর আঘাত বা হামলার ঘটনা নিয়ে কিছু না জিজ্ঞেস করে উল্টে “সুগারের কথা বলছেন,” যা অমানবিক।