উত্তরবঙ্গের হামলার রেশ এবার হাওড়া ব্রিজে! অফিস টাইমে ধুন্ধুমার, অবরুদ্ধ কলকাতা-হাওড়ার লাইফলাইন

ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে গিয়ে বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কের উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের আঁচ এবার এসে পড়ল কলকাতার লাইফলাইন হাওড়া ব্রিজে। মঙ্গলবার অফিস টাইমে বিজেপির প্রতিবাদ মিছিলের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির একাংশ কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।

সূত্রের খবর, বিজেপি মহিলা মোর্চার নেতৃত্বে হাওড়ার বুকে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত হয়। তাদের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে তাদের জনপ্রতিনিধিদের উপর যেভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা হয়েছে, তা কোনো সভ্য সমাজে বরদাস্ত করা যায় না। এই ঘটনার বিচার দাবি করেই তারা রাস্তায় নামে।

পুলিশের বাধা, শুরু ধস্তাধস্তি
মিছিল হাওড়া ব্রিজের দিকে এগোতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ আগে থেকেই গার্ডরেল বসিয়ে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয়। সেখানেই শুরু হয় গণ্ডগোল। বিজেপির মহিলা মোর্চার সদস্যদের সঙ্গে কর্তব্যরত পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। একাধিক বিক্ষোভকারী দাবি করেন, পুলিশ তাঁদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছে।

অন্যদিকে, পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো রকম বলপ্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

অফিস টাইমে চরম দুর্ভোগ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ব্রিজের উপর যান চলাচল সম্পূর্ণ থমকে যায়। হাওড়া ও কলকাতার সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের দুই প্রান্তে তৈরি হয় বিশাল যানজট।

অফিস টাইমে এমন অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। হাওড়া স্টেশনগামী অসংখ্য যাত্রী, কর্মব্যস্ত অফিসযাত্রী, এমনকি অ্যাম্বুলেন্সও আটকে পড়ে এই বিশৃঙ্খলার মাঝে।

বিজেপির এক জেলা নেতৃত্ব এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে আমাদের সাংসদ ও বিধায়ককে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তা একপ্রকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই আমরা পথে নেমেছি। অথচ আমাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভেও পুলিশ বলপ্রয়োগ করছে।” এই লাগাতার বিক্ষোভে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ আরও জোরালো হলো।