‘আমরা জাদুকর নই!’ কেন্দ্রের রিপোর্ট চাওয়ার দাবিতে ফুঁসলেন মমতা, বললেন, ‘বন্যা ত্রাণে ১ পয়সাও দেওয়া হয়নি!’

বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ পরিদর্শনের পর মঙ্গলবার বিকেলে উত্তরকন্যা থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বন্যা ত্রাণে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এক পয়সাও না দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কেন্দ্র বারবার শুধু ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট’ চায়, যা এই পরিস্থিতিতে অসম্ভব।

মমতা বলেন, “যদি কিছু হয় কেন্দ্রের খালি একটাই কাজ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট চায়। আমরা জাদুকর নই। এভাবে (২৪ ঘণ্টায়) দেওয়া যায় না। রিপোর্ট পাঠাতে ১৫ দিন লাগে। রিপোর্ট পেয়েও কোনো টাকা দেয় না। কী করবে রিপোর্ট নিয়ে?”

বন্যা ত্রাণ ও বঞ্চনার অভিযোগ
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজ্যের ন্যায্য পাওনা বন্ধ রাখার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বন্যা ত্রাণে এক পয়সাও দেওয়া হয়নি। আমরা পাইনি। তাও আমরা লড়ে যাচ্ছি। আবাসের টাকা, ১০০ দিনের টাকা, সর্বশিক্ষা মিশন, পিএইচই-র টাকা বন্ধ রাখা হচ্ছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, বন্যা কবলিত হওয়া সত্ত্বেও “ডাবল ইঞ্জিন” সরকারগুলি সব টাকা পাচ্ছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা আলাদা সন্তান। অনেক পরিকাঠামো নষ্ট হয়েছে।”

মোদি ও বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ
বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যেরও কড়া জবাব দেন মমতা। তিনি বলেন, “সাংবিধানিক পদের সম্মান রেখে মন্তব্য করা উচিত। আমি হিংসাকে সমর্থন করি না। এই বন্যা হলে, হিংসা হলে তারপরে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “কেন্দ্র খালি গালাগালি দিয়েছে। খুশি হয়েছি। ওঁর (প্রধানমন্ত্রী) দোষ নয়। উনি পার্টির কথায় চলতে পারেন না। যখন পুলিশ প্রশাসনের সবাই কাজ করছে, পার্টির কথা শোনা উচিত নয় প্রধানমন্ত্রীর। রাজনীতি করার জন্য ৩৬৫ দিন রয়েছে।”

কার্নিভাল ও উদ্ধারকাজ নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী
উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের মধ্যেই কলকাতায় দুর্গাপুজোর কার্নিভাল হওয়া নিয়ে যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে, সে প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কেউ কেউ রাজনীতি করছে, কেন কার্নিভাল হল? আরে সেটা তো গর্ব। আগে থেকে অ্যারেঞ্জ করা। বাতিল করা সম্ভব না।”

তিনি আরও যুক্তি দেন, তিনি যদি তখন উত্তরবঙ্গে যেতেন, তবে পুলিশ ও প্রশাসনের মনোযোগ উদ্ধারকাজ থেকে সরে যেত। তিনি বলেন, “আমি যদি একটা বিধ্বস্ত রাস্তা দিয়ে ৫০টা গাড়ি নিয়ে চলি, তাহলে পাহাড়ে চাপ পড়ে। বিপদের সময় মানুষকে উদ্ধার করা মূল কাজ।”

দুর্গতদের জন্য আশ্বাস
দুর্যোগের কারণে মোট ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচ থেকে ছয় জন শিশু রয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, নেপাল ও ভুটানের ড্যাম থেকে জল ছাড়ার ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি ছিল, যা নিয়ে মুখ্যসচিব তাদের জানাবেন।

রাস্তা ও সেতু: রোহিণীর ধস সরানোর কাজ শুরু হয়েছে, যা ১০-১১ দিনের মধ্যে শেষ হবে। অস্থায়ী সেতু নির্মাণে তিন-চার কোটি টাকা লাগবে।

ত্রাণ: ক্ষতিগ্রস্ত ২১টি পরিবারের সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন। এক মাস ত্রাণ সহায়তা চলবে। জল কমলে ফিল্ড সার্ভে করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সব ব্যবস্থা করা হবে।