রুদ্ররূপ কেলেঘাইয়ের, বিপদসীমা ছুঁয়ে জল! বাঁধ রক্ষায় রাতভর টহল, আতঙ্কে পূর্ব মেদিনীপুর

টানা বর্ষণে ফুলেফেঁপে উঠেছে কেলেঘাই নদী, যার রুদ্ররূপ দেখে ফের বন্যার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজন। অবিরাম বৃষ্টির জেরে শুধু কেলেঘাই নয়, বাগুই খালেরও জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে। নদীর তীব্র স্রোতে কোথাও কাঠের সাঁকো ভেসে গিয়েছে, আবার কোথাও নদীবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় ধস নেমেছে।
পটাশপুর ও ভগবানপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার রাস্তাঘাট, পাকা পথ থেকে মাটির রাস্তা— সবই এখন জলের তলায়। যাতায়াত ও জরুরি সামগ্রী পারাপারের একমাত্র ভরসা এখন ডিঙি নৌকা।
বিপদসীমার কাছে জল, সেচ দফতর সতর্ক
পটাশপুর এক ব্লকের আমগেছিয়ার সেচ দফতরের মিটার স্কেল অনুযায়ী, কেলেঘাই নদীর জলস্তর মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছিল।
উদ্বেগ: রবিবার সন্ধ্যায় জলস্তর চরম বিপদসীমা ৫.৭৯ মিটার ছুঁয়েছিল। সোমবার দুপুরে তা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৫.৮৩ মিটারে।
স্বস্তি ও সতর্কতা: মঙ্গলবার কিছুটা স্বস্তি মিলেছে, কারণ জলস্তর সামান্য নেমে ৫.৭৮ মিটারে এসেছে। তবে সেচ দফতর বিন্দুমাত্র অসতর্ক নয়। রাত জেগে নদীবাঁধের ওপর চলছে টহলদারি, যাতে কোনও দুর্বল অংশ ভেঙে না পড়ে।
প্রশাসনের তৎপরতা, নজরদারি দল গঠন
২০২২ সালের বন্যার তিক্ত অভিজ্ঞতা (যখন ধকড়াবাঁধায় বাঁধ ভেঙে পটাশপুর, ভগবানপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল) এখনও ভোলেনি এলাকাবাসী। সেই কারণে এবারে প্রশাসন অনেক বেশি সতর্ক।
জেলাশাসকের পরিদর্শন: মঙ্গলবার কেলেঘাই নদীর দুর্বল এলাকা পরিদর্শন করেন জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাঝি। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা নিয়মিত বাঁধ এবং জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন।
৩০ জনের দল: সেচ দফতর নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিয়ে ৩০ জনের একটি নজরদারি দল গঠন করেছে। তারা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা বাঁধ পাহারার দায়িত্বে রয়েছেন। বাঁধের গর্ত দিয়ে জল ঢুকতে দেখলেই দ্রুত মেরামতির কাজ শুরু হচ্ছে।
শক্তিশালী করা হচ্ছে বাঁধ: নদীবাঁধের দুর্বল অংশগুলি বালির বস্তা ফেলে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
টানা বৃষ্টিতে উপকূলীয় অঞ্চলে ফের উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি হলেও, প্রশাসনের এই জোরদার প্রস্তুতিতে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিশ্বাস নিচ্ছেন পূর্ব মেদিনীপুরের কেলেঘাই নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ।