হামাসকে ট্রাম্পের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি, ‘রবিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শান্তি চুক্তি করো, না হলে অপেক্ষা করছে নরক-যন্ত্রণা!’

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে এবার সরাসরি সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কড়া বার্তা দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি প্যালেস্তিনীয় জঙ্গি গোষ্ঠী হামাসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রবিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অবশ্যই ইজরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করতে হবে। অন্যথায়, এর “অত্যন্ত দুঃখজনক পরিণতি” হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, হামাসকে ইজরায়েলি বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার এবং “যে কোনোভাবে শান্তি আসবেই” এই বলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার শেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
২০-দফা প্রস্তাবে কী আছে?
দুই বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্প প্রশাসন একটি ২০-দফা প্রস্তাবের রূপরেখা তুলে ধরেছে, যা হোয়াইট হাউস প্রকাশ করেছে। এই প্রস্তাবটিকে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব শেষ করার একটি ‘রোডম্যাপ’ বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। এই পরিকল্পনার মূল বিষয়গুলি হলো:
অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা।
৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামাস কর্তৃক পণবন্দীদের মুক্তি।
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ।
গাজা থেকে ইজরায়েলের ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের আহ্বান।
যুদ্ধ-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃত্বের প্রস্তাব, যার নেতৃত্বে থাকবেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প জানান, এই পরিকল্পনায় সাড়া দেওয়ার জন্য দিনকয়েক আগেই তিনি হামাসকে তিন থেকে চারদিন সময় দিয়েছিলেন।
“আমরা শুধু হামাসের জন্য অপেক্ষা করছি”
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, তাঁর শান্তি পরিকল্পনায় ‘বাকি সকল পক্ষই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে’ এবং তারা শুধু হামাসের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।
ট্রাম্পের দাবি, “সমস্ত আরব দেশ এতে সই করেছে। মুসলিম দেশগুলি এতে সই করেছে। ইজরায়েলও এতে সই করেছে।” এরপরেই তিনি হামাসকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেন: “আমরা কেবল হামাসের জন্য অপেক্ষা করছি, এবং হামাস হয় তা করবে, অথবা করবে না, এবং যদি তা না হয়, তবে এর অত্যন্ত দুঃখজনক পরিণতি হতে চলেছে।”
মোদীর স্বাগত বার্তা
গাজায় শান্তি ফেরানোর এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “গাজায় যুদ্ধ সমাপ্তির যে পরিকল্পনা পেশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাকে স্বাগত জানাই আমরা। এটি প্যালেস্তিনীয় ও ইজরায়েলি জনগণের জন্য তো বটেই, বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই শান্তি, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করছে। আশাকরি, সংশ্লিষ্ট সকলেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই প্রচেষ্টার পক্ষে একজোট হবেন।”
আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন হামাসের প্রতিক্রিয়ার দিকে, যা নির্ধারণ করবে গাজার ভবিষ্যৎ।