বিদেশের মাটিতে বাংলার সংস্কৃতি! হামবুর্গের বাঙালিরা কেন রবীন্দ্রসঙ্গীত ও লোকগান নিয়ে আসছেন শ্রোতাদের জন্য?

শহর যখন পুজোর আলোয় ঝলমলে, তখন দেশের বাইরে থাকা বহু বাঙালির মন পড়ে থাকে দেশের মাটিতে। যদিও নানা কারণে সবাই উৎসবে ফিরতে পারেন না, তবু যেখানে থাকেন, সেখানেই নিজেদের মতো করে মেতে ওঠেন দুর্গাপূজার আনন্দে। তেমনই এক অনন্য উদযাপনের সাক্ষী হলো জার্মানির হামবুর্গ শহর।
হামবুর্গের প্রবাসী বাঙালিরা পুজো উপলক্ষে এক বিশেষ আয়োজন করেছেন। তাঁরা বিদেশের মাটিতেই অভিনব উপায়ে মাতৃবন্দনা করেছেন এবং সেই সুরধ্বনিকে সংরক্ষণ করেছেন একটি নজরকাড়া ভিডিওর আকারে।
জার্মানির দর্শনীয় স্থানে ‘জয় জয় জপ্য জয়ে’
ইউটিউবের মাধ্যমে এই প্রবাসী বাঙালিরা তাঁদের সেই উদযাপনে সকলকে সামিল হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাঁরা মহিষাসুরমর্দ্দিনীর কালজয়ী গান ‘জয় জয় জপ্য জয়ে’-কে একেবারে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছেন।
এই গানের ভিডিয়োটি শ্যুট করা হয়েছে হামবুর্গের জনপ্রিয় কিছু পর্যটন স্থান যেমন স্পাইচের্স্ট্যাড, এলবফিলহারমোনি, ল্যান্ডুংসব্রুকেন, প্লান্টেন আন্ড ব্লুমেন, ল্যামারটভিয়েট, ফিশবেকার হাইডে-এর মতো মনোরম লোকেশনে। বিদেশের মাটিতে বাংলার এই গানের সুর ও দৃশ্যপট ইতিমধ্যেই মন ছুঁয়েছে দর্শকদের।
বাংলা সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে আনার অঙ্গীকার
হামবুর্গের প্রবাসী বাঙালি তৃষিতা বন্দোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে জানান, তাঁরা পুজোর গান দিয়ে শুরু করলেও, ভবিষ্যতে তাঁদের আরও বড় পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের ইচ্ছে, বাংলার নানা সংস্কৃতি— তা রবীন্দ্রসঙ্গীত হোক বা লোকগান, সবটাই তাঁরা শ্রোতা তথা দর্শকদের জন্য তুলে ধরবেন।
গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন— অর্চি সাহা, অর্ঘ্যদীপ মন্ডল, অরুণাভ বন্দ্যোপাধ্যায়, চিন্ময় ভট্টাচার্য, চুমকি পাল, মৃদুল রায়, নওশের আহমেদ সিকদার, পল্লবী রায়, প্রিয়ামা ভট্টাচার্য, স্মিতা ভট্টাচার্য, সুমিত রায় এবং তৃষিতা বন্দোপাধ্যায়। সুমিত রায়ের ধারণা, ডিজাইন এবং বাস্তবায়নে তৈরি হয়েছে এই ভিডিওটি। জানা গেছে, কোক স্টুডিও বাংলার বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এই গানটিতে সহযোগিতা করেছেন।
বিদেশের মাটিতে বাঙালির এই সাংস্কৃতিক প্রচেষ্টা একদিকে যেমন নিজেদের মাতৃভূমির প্রতি টানকে তুলে ধরে, তেমনই বিশ্ব দরবারে বাংলার গান ও ঐতিহ্যকে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে।