পাশের ঘরেই ছিলেন স্বামী! মর্মান্তিক পরিণতি মা ও দুই শিশুর, ঘটনার নেপথ্যে কি?

দুর্গাপুজোর সপ্তমীর সকালে বিষাদের ছায়া নেমে এল মালদা শহরে। ওল্ড মালদা শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাচামারি হালদারপাড়ায় এক বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন রূপালি হালদার (২৭) এবং তাঁর ছয় বছরের ছেলে অয়ন ও ছয় মাসের মেয়ে রিমি।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে তাঁদের শোবার ঘর থেকেই তিনজনের দেহ উদ্ধার হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা।

ধোঁয়াশা ঘিরছে স্বামীকে:

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করলেও, ঘটনার সময় রূপালির স্বামী অসিত হালদার পাশের ঘরেই ছিলেন। কেন বা কীভাবে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। এই সন্দেহের কারণে পুলিশ ইতিমধ্যেই অসিত হালদারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

স্থানীয় কাউন্সিলার শ্যাম মণ্ডল ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে বলেন, “সপ্তমীর সকালে গোটা এলাকাই শোকে স্তব্ধ। একই পরিবারের তিনজনের এমন পরিণতি কল্পনাও করা যায় না।”

প্রতিবেশীদের একটি অংশের ধারণা, সম্ভবত রূপালী দেবী নিজেই তাঁর দুই সন্তানকে খুন করে শেষে আত্মঘাতী হয়েছেন। তবে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও সিদ্ধান্তে আসার আগে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে যা করছে পুলিশ:

অসিত হালদারকে জিজ্ঞাসাবাদ: মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার জন্য আটক স্বামীকে নিবিড়ভাবে জেরা করা হচ্ছে।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট: ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে, যা মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারে।

সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা: রহস্যের জট খুলতে বাড়ি এবং সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।

এই ঘটনা নিছক আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।