দুর্গাপুজোর মধ্যেই বাংলাদেশে কিশোরীকে গণধর্ষণ, প্রতিবাদ করতেই চালানো হলো গুলি

দুর্গাপুজোর উৎসবের আবহেও ফের অশান্ত হয়ে উঠল বাংলাদেশ। খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় রবিবার আন্দোলনকারীদের মিছিলে গুলি চালানোর ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন এবং চারজন জখম হওয়ার খবর মিলেছে। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার দুপুরে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর ধর্ষণের প্রতিবাদে আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি অংশ বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল। প্রশাসনের দাবি, সেই সময়েই হঠাৎ আন্দোলন হিংসাত্মক হয়ে ওঠে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ জানান, নিহতদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। যদিও মৃতদের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং ১৪৪ ধারা জারি

গুলিচালনার পরই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। গুইমারার রামেসু বাজারে আদিবাসীদের বহু দোকানে লুটপাট হয়, একাধিক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং মোটরবাইকও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী মংসাজাই মারমা ও কংজারী মারমার দাবি, তাঁদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল। হঠাৎ নিরাপত্তা বাহিনী এসে অশান্তি শুরু করে এবং তারপরেই গুলি চলতে শুরু করে।

অন্যদিকে, সেনা ও পুলিশ-প্রশাসনের অভিযোগ, ইউপিডিএফ (মেইন) এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠী রামেসু বাজারে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। সেনাবাহিনীর দাবি, পরিস্থিতি সামলাতে তারা হস্তক্ষেপ করলে, অস্ত্রধারীরা পাহাড় থেকে স্বয়ংক্রিয় বন্দুক দিয়ে গুলি চালায়। এতে প্রায় ১০ সেনা আহত হন, এরপরই পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন জওয়ানরা। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দাবি করেছে, ‘দুষ্কৃতীদের’ হামলায় মোট ১৩ সেনা, তিন পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা আহত হয়েছেন।

অবরোধের ডাক ‘জুম্মা ছাত্র জনতা’র

অন্যদিকে, স্থানীয় সংগঠন ‘জুম্মা ছাত্র জনতা’-র অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে গ্রামে সেনার তল্লাশি, গ্রেফতার ও হেনস্থা চলছে, যার ফলে অস্থিরতা বাড়ছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ধর্ষণ মামলার সব অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসার দাবি তোলা হয়েছে।

সংগঠনটি ঘোষণা করেছে, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটিতে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলবে। এই পরিস্থিতিতে পর্যটন কর্মসূচিও আপাতত বন্ধ রাখার ডাক দিয়েছে তারা। বর্তমানে গুইমারার বিস্তীর্ণ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত সেনা ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের এই পাহাড়ি এলাকায় রীতিরকম থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।