বোলপুরে বাস দুর্ঘটনায় ১ শিশুর মৃত্যু, আহত ৩০, সপ্তমী সকালে শোকের ছায়া, টোটোর অবাধ চলাচল নিয়ে ক্ষোভ

দুর্গাপূজার সপ্তমীর সকালেই এক ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এল বোলপুর মহকুমা এলাকায়। সোমবার সকালে একটি যাত্রীবোঝাই বাস উলটে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং কমপক্ষে ৩০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
ঘটনাটি ঘটেছে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালের নিকটবর্তী এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নানুর থেকে বোলপুরের দিকে আসা যাত্রীবোঝাই বাসটির সামনে হঠাৎ করে একটি টোটো চলে আসে। টোটোটিকে এড়াতে গিয়ে বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং বাসটি রাস্তার ধারে উলটে যায়।

দুর্ঘটনার ফলে বাসের ভিতরে বহু যাত্রী আটকে পড়েন। মুহূর্তে চিৎকার-চেঁচামেচিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বোলপুর থানার পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় উদ্ধার কাজ শুরু হয়।

আহতদের ভিড় হাসপাতালে, মৃত এক শিশু
আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে দ্রুত বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার পরই এক শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এখনও পর্যন্ত মৃত শিশুটির পরিচয় জানা যায় যায়নি।

আহত যাত্রীদের মধ্যে অনেকের মাথা ও শরীরে গুরুতর আঘাত রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনেকেরই অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।

স্থানীয়দের ক্ষোভ: বেহাল রাস্তা ও টোটোর দাপট
স্থানীয় বাসিন্দারা এই দুর্ঘটনার জন্য সরাসরি রাস্তার বেহাল অবস্থা এবং টোটোর অবাধ চলাচলকে দায়ী করছেন। তাঁদের অভিযোগ, নানুর-বোলপুর রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে খারাপ। বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, ফলে এই রাস্তায় প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পুলিশ অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। টোটোচালকের সন্ধান চলছে এবং তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পুজোর আনন্দের মাঝেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা গোটা এলাকায় গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে রাস্তাঘাট সংস্কার এবং টোটোর চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হোক।