‘আমি তো জানি না!’ ওয়েবকুপার কমিটি ভাঙা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যে অস্বস্তি শাসকদলে, প্রকাশ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জল্পনা

শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুপা (West Bengal College and University Professors’ Association)-র কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার শাসকদল তৃণমূলের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করা হয় যে, ওয়েবকুপা-সহ একাধিক শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য ও জেলা কমিটি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে খোদ সংগঠনের সভাপতি তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু কিছুই জানেন না বলে দাবি করায় তৃণমূলের অন্দরে সমন্বয়ের অভাব এবং অস্বস্তি ফের প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সাংবাদিকদের সামনে স্পষ্ট জানান, “আমি তো জানি না। আর যে বিষয়ে কিছু জানি না সেটা নিয়ে আমার কী বলার থাকতে পারে? দলের সিদ্ধান্ত দল নিয়েছে। আমাকে জেনে বলতে হবে। আমি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে পুজোর পর আলোচনা করব। এখন তো মুখ্যমন্ত্রী পুজো উদ্বোধন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।”

অন্যদিকে, এই বিষয়ে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “দলের সিদ্ধান্ত সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়েছে। কে কখন জানলেন, জানলেন না সেটা আমি কী করে বলব?” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সভাপতির অজান্তে কমিটি ভেঙে দেওয়ার এই ঘটনায় শাসকদলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও মতবিরোধ আরও একবার প্রকাশ্যে এল।

উল্লেখ্য, গত বছর থেকেই ওয়েবকুপা আলোচনায় ছিল। নিয়োগ দুর্নীতি তদন্তের আবহে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রাত্য বসুকে এই সংগঠনের সভাপতি করা হয়। কিন্তু এরপরই সংগঠনের ভেতরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট হতে থাকে। বিশেষত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত প্রাক্তন সহ-সভাপতি মণিশঙ্কর মণ্ডলকে বহিষ্কার করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। সেই সময় মণিশঙ্কর সরাসরি ব্রাত্য বসুর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন।

দীর্ঘদিনের সেই বিতর্কের পর সভাপতির অজান্তে কমিটি ভেঙে দেওয়ার এই ঘটনা ব্রাত্য বসু ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ শিবিরের মধ্যে দূরত্ব ফের প্রকট করে তুলল বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিরোধীরা তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা বলেন, “যদি আত্মসম্মানবোধ থাকত, তাহলে ব্রাত্য বসু শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতেন। উনি ঠুঁটো জগন্নাথ। তাঁর কোনো মান্যতা নেই।” কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর কটাক্ষ, “কে কতটা শিক্ষিত সেটা বিষয় নয়। প্রতিষ্ঠান চালানোর যোগ্যতা নেই বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর।”

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ওয়েবকুপার কমিটি ভাঙার সিদ্ধান্ত এবং সেই বিষয়ে সভাপতির ‘অজ্ঞতা’-র বিষয়টি শাসকদলের অন্দরে অন্তর্দ্বন্দ্বের জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিল। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন প্রসঙ্গে ব্রাত্য বসু এদিন শুধু বলেন, “তিনি নীরোগ থাকুন, সুস্থ থাকুন। আমি এটুকুই বলব।”