প্রাথমিকে ১৩,৪২১ শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, পুজোর পরই শুরু হবে প্রক্রিয়া, ৫০ নম্বরের ভিত্তিতে হবে যোগ্যতা নির্ধারণ

বহু প্রতীক্ষিত টেট (TET) পরীক্ষার ফলপ্রকাশের ঠিক পরই রাজ্যজুড়ে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে মোট ১৩ হাজার ৪২১টি শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে বলে পর্ষদ সূত্রে খবর। যদিও আবেদনপত্র কবে থেকে জমা নেওয়া শুরু হবে, সেই দিনক্ষণ শিগগিরই জানানো হবে।
পর্ষদ সূত্রে খবর, পুজোর পরই এই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা ও নিয়োগের পদ্ধতি
এই প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানান, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎপরতায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ শূন্যপদ ঘোষণা করে দিয়েছে। চাকরিহীন যুবক-যুবতীদের জন্য এটা খুবই ভালো খবর। পুজোর পরে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ নিয়োগের কাজ শুরু করে দেবে। সকল চাকরিপ্রার্থীদের জন্য রইল আগাম শুভেচ্ছা।”
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মোট ৫০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থীদের চূড়ান্ত যোগ্যতা নির্ধারণ হবে। এই ৫০ নম্বরের বিভাজন নিম্নরূপ:
ক্ষেত্র বরাদ্দ নম্বর
মাধ্যমিকের ফলাফল ৫
উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল ১০
প্রশিক্ষণ (D.El.Ed/B.Ed) ১৫
টেট পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর ৫
সহশিক্ষা কার্যক্রমে ৫
সাক্ষাৎকার ৫
অ্যাপটিটিউড টেস্ট ৫
Export to Sheets
গুরুত্বপূর্ণ শর্ত: কর্মরত শিক্ষক ও প্যারা-টিচারদের ক্ষেত্রে অ্যাপটিটিউড টেস্টের ৫ নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে। অন্যদিকে, প্রার্থীর বয়স ১ জানুয়ারি, ২০২৫-এর মধ্যে ৪০ বছরের কম হতে হবে।
টেটের ফলপ্রকাশ ও শূন্যপদের সমীকরণ
গত বুধবার প্রকাশিত হয়েছে ২০২৩ সালের প্রাথমিকে টেটের ফল। দীর্ঘ প্রায় ২১ মাস অপেক্ষার পর ফল প্রকাশ হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা স্বস্তি পেয়েছেন।
পরীক্ষার্থী সংখ্যা: চলতি পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন ৩ লক্ষ ৯ হাজার ৫৪ জন, যার মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ২ লক্ষ ৭৩ হাজার ১৪৭ জন।
উত্তীর্ণ: উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৬ হাজার ৭৫৪ জন। পাশের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.৪৭ শতাংশ।
প্রথম দশ: প্রথম দশে জায়গা পেয়েছেন ৬৪ জন পরীক্ষার্থী।
যদিও পাশ করার পর শূন্যপদের বিজ্ঞপ্তি আসায় চাকরিপ্রার্থীরা খুশি, তবুও মাত্র ৬ হাজার ৭৫৪ জন পাশ করা প্রার্থীর বিপরীতে ১৩ হাজার ৪২১টি শূন্যপদ থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এদিকে, পুজোর মুখে এই নিয়োগের সুখবর এলেও এসএসসির গ্রুপ সি ও ডি কর্মীরা এপ্রিল মাস থেকে বেতন না পাওয়ায় চিন্তায় পড়েছেন। এই বিষয়ে ব্রাত্য বসু আশ্বাস দিয়েছেন যে, “তাঁদের পরীক্ষার জন্য আমি স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছি। পুজোর পরেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে।”