২০২৬-এর বাংলা জয়ের চাবিকাঠি বিপ্লব দেবের হাতে? অমিত শাহের ‘বাম-ভাঙা’ অস্ত্রেই কি এবার তৃণমূল বধ?

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। বাংলার একেবারে লাগোয়া রাজ্য ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, পোড়-খাওয়া রাজনীতিক বিপ্লব কুমার দেবকে (Biplab Kumar Deb) এই নির্বাচনে কো-ইনচার্জের (Co-Incharge) গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনীতিতে প্রতিটি পদক্ষেপের পিছনেই একটি সুগভীর কৌশল থাকে। আর যখন তা বিধানসভা নির্বাচনের মতো বড় মঞ্চে, তখন বিপ্লব দেবকে এই দায়িত্ব দেওয়ার পিছনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যে এক বিরাট রাজনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়।

বিজেপি হাইকমান্ড, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিপ্লব দেবের বহুমুখী সাংগঠনিক দক্ষতা, ভোট পরিচালনার ক্ষমতা এবং বাম দুর্গ ভেঙে দেওয়ার অতীত সাফল্যের উপর আস্থা রাখছেন।

যে কারণে বিপ্লব দেবের ওপর আস্থা বিজেপির:

বিপ্লব দেবের রাজনৈতিক জীবন বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়, কেন তাঁকে বাংলার মতো চ্যালেঞ্জিং রাজ্যের দায়িত্ব দেওয়া হলো:

১. শূন্য থেকে ত্রিপুরার মসনদ দখল:

 

  • ২০১৫ সালে যখন বিপ্লব দেব ত্রিপুরার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, তখন রাজ্যটিতে বিজেপির নাম-নিশানও ছিল না। এমনকী একজন মণ্ডল সভাপতিও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ছিল।
  • দিল্লির কার্যকর্তা থেকে শুরু করে তিনি একেবারে grassroots লেভেলে কাজ শুরু করেন। মিসড কল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দেড় লক্ষ সদস্য যুক্ত করেন।
  • মাত্র দুই বছরের মধ্যে, ২০১৬ সালে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর, ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনেই তিনি ২৫ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ৬০ আসনের ত্রিপুরা বিধানসভায় ৩৬টি আসনে বিজেপিকে জিতিয়ে আনেন। এটাই ছিল তাঁর ‘এলেন, দেখলেন, জয় করলেন’-এর মতো সাফল্য।

২. হ্যাটট্রিক করানো হরিয়ানার ‘গেম চেঞ্জার’:

 

  • ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের খারাপ ফলের পর হরিয়ানায় যখন বিজেপির ভাবমূর্তি ফেরানো এবং প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, তখনও কো-ইনচার্জ হিসেবে সফল হন বিপ্লব দেব।
  • তাঁর কৌশলে ভর করেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের নেতৃত্বে বিজেপি সেখানে টানা তৃতীয়বারের জন্য সরকার গড়তে সক্ষম হয়। এই জয় দলের সাংগঠনিক শক্তির ওপর তাঁর দক্ষতার প্রমাণ দেয়।

৩. বাংলা-ত্রিপুরার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মিল:

 

  • বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছে, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভাবে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ত্রিপুরার এক গভীর মিল রয়েছে।
  • বিপ্লব দেব নিজে বাংলায় সাবলীল, ফলে হিন্দিভাষী নেতার তকমা জুটবে না। তিনি বাংলার মানুষের সঙ্গে সহজেই মিশতে পারবেন।
  • বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার এখন সেই পুরোনো বাম শাসকের মতোই একচেটিয়া ক্ষমতা ভোগ করছে। এই ‘গাঁটমারা’ রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে বিপ্লব দেবের মতো একজন নেতা দরকার, যিনি নিজের হাতে বামেদের দুর্গ ভেঙেছেন।

বিপ্লব দেবের নিয়োগের মাধ্যমে বিজেপি আসলে এই বার্তাই দিতে চাইছে যে, ধৈর্য, শক্তিশালী নেতৃত্ব এবং সংগঠনের জোরে গভীরে শেকড় গেড়ে বসা যেকোনো রাজনৈতিক শক্তিকে মোকাবিলা করা সম্ভব। বাম-শাসনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে সরানোর অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। এবার সেই কৌশল বাংলার মাটিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কতটা কাজে আসে, সেটাই দেখার।