প্রত্যন্ত সুন্দরবনের স্কুলে আধুনিকতার ছোঁয়া, পড়াশোনা, শরীরচর্চা ও পরিবেশ সুরক্ষাকে এক করল কনকনগর সৃষ্টিধর ইনস্টিটিউট

সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি স্কুল যেন আধুনিকতার প্রতিচ্ছবি। হিঙ্গলগঞ্জের কনকনগর সৃষ্টিধর ইনস্টিটিউট কেবল পড়াশোনার কেন্দ্র নয়, বরং বহু আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ-বান্ধব উদ্যোগে সজ্জিত এক অনন্য শিক্ষাঙ্গন। এই উদ্যোগগুলি গ্রামের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শহরের সুযোগ-সুবিধার স্বাদ এনে দিয়েছে।
স্কুল চত্বরের দিকে তাকালে চোখ টানবে ছবির মতো সাজানো পরিবেশ, যা এক কথায় দুর্লভ। শুধু ক্লাসরুমেই নয়, স্কুলের পরিকাঠামোতে রয়েছে একাধিক অভিনব সংযোজন:
অডিও-ভিজ্যুয়াল ক্লাসঘর
পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল (যা সবুজ প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার বার্তা দেয়)
সবজি ও মাছ চাষের প্রকল্প
এর মধ্যেই এবার নতুন করে যুক্ত হলো অত্যাধুনিক ফিটনেস জিম।
শারীরিক ও মানসিক বিকাশে জোর
স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানিয়েছেন, শিশুদের মানসিক বিকাশ যেমন জরুরি, তেমনই শারীরিক সক্ষমতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই দিক মাথায় রেখেই এই ফিটনেস সেন্টার তৈরি করা হয়েছে, যা ছাত্রছাত্রীদের রীতিমতো উৎসাহিত করেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি তারা এখন শরীরচর্চার দিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।
ছেলের স্মৃতিতে অম্লান উদ্যোগ
এই ফিটনেস জিম স্থাপনের উদ্যোগটি আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। নিউটাউনের এক বাসিন্দা তাঁর প্রয়াত ছেলের স্মৃতিতে এই জিমটি তৈরি করার ব্যবস্থা করে দেন। সমাজকল্যাণের এই উদ্যোগে একদিকে যেমন স্মৃতি অম্লান রাখা গেল, তেমনি সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার ছাত্রছাত্রীরাও পেল ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান এক সম্পদ।
গ্রামের মানুষজনের মতে, এই উদ্যোগ কেবল ছাত্রছাত্রীদের নয়, গোটা এলাকার শিক্ষার পরিবেশ ও মানসিকতারও উন্নতি ঘটাবে। সুন্দরবনের মতো অঞ্চলে, যেখানে এখনও বহু জায়গায় প্রাথমিক পরিকাঠামোই সঠিকভাবে পৌঁছায়নি, সেখানে কনকনগর সৃষ্টিধর ইনস্টিটিউটের শিক্ষা, পরিবেশ সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকে একসঙ্গে যুক্ত করার এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।