লাদাখ অস্থির হলে সুযোগ নেবে চিন, কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করলেন ফারুক আবদুল্লাহ, এনআইএ-র নজরে সোনম ওয়াংচুক

লাদাখের মানুষের দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পরামর্শ দিলেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি এবং জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ। তিনি দিল্লিকে সতর্ক করে বলেছেন, সীমান্তবর্তী লাদাখের যেকোনো অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে চিন।

২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীর থেকে লাদাখকে আলাদা করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণার পর থেকেই সেখানকার মানুষ রাজ্যের মর্যাদা দাবি করে আসছেন। একইসঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরকে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন এই প্রবীণ নেতা।

উপ রাজ্যপালের অভিযোগ এবং এনআইএ-র তদন্ত
অন্যদিকে, লাদাখের আন্দোলন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ করেছেন উপ রাজ্যপাল গোবিন্দ গুপ্তা। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় যুবকদের প্ররোচিত করতে বাংলাদেশ ও নেপালের গণঅভ্যুত্থানের ছবি ও ভিডিও দেখানো হচ্ছে। এই প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পরিবেশ আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে।

নিহত ৪: বুধবারের হিংসার ঘটনা নিয়ে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) তদন্ত শুরু করেছে। আন্দোলন থামাতে পুলিশ গুলি চালালে মোট চারজন নিহত হন।

এনআইএ ও সিবিআই নজরদারি: সূত্রের খবর, সোনম ওয়াংচুককে হেফাজতে নিতে পারে এনআইএ। এদিকে, সিবিআই তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে।

ফারুক আবদুল্লাহর ক্ষোভ: এজেন্সি-নির্ভরতা
উপ রাজ্যপাল গোবিন্দ গুপ্তা বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছেন, লাদাখবাসীর ‘ষষ্ঠ তফসিল’-এ অন্তর্ভুক্তির দাবি নিয়ে সরকার খুবই আগ্রহী। এই তফসিলের আওতায় এলে বাইরের কেউ লাদাখে জমি কিনতে পারবে না এবং এখানকার ভাষা, সংস্কৃতি সুরক্ষিত থাকবে।

তবে ফারুক আবদুল্লাহ, সোনমের নাম না করেও কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, “যেখানেই সরকার হেরে যায় সেখানেই এজেন্সিকে কাজে লাগালে কী করে হবে!” তিনি মনে করিয়ে দেন, জম্মু-কাশ্মীরে তাঁরা কম নির্যাতন ভোগ করেননি, কিন্তু গান্ধীর পথ ছাড়েননি। তাঁর মতে, লাদাখের মানুষও এতদিন শান্তিপূর্ণভাবেই প্রতিবাদ করেছেন।

বর্তমানে লাদাখের বসবাসকারীদের প্রধান দাবি হল পৃথক রাজ্য, যা সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর থেকেই জোরদার হয়েছে।