নদীয়ার চমক, কল্যাণী আইটিআই মোড়ের মণ্ডপে মায়ানমারের বৌদ্ধ মন্দির, কলকাতার পুজোর সঙ্গে জোর টক্কর

বিগত কয়েক বছর ধরেই থিমের চমকে কলকাতার পুজোকেও জোরদার টেক্কা দিচ্ছে নদীয়ার কল্যাণী আইটিআই মোড়ের পুজো। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। জেলার পুজোতেও যে থিমের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীকে টানা যায়, তা বারবার প্রমাণ করে দেখিয়েছে এই মণ্ডপ। এবছর লুমিনাস ক্লাব তাদের পুজোর থিমে তুলে এনেছে একটুকরো মায়ানমারকে, তৈরি করেছে মায়ানমারের বৌদ্ধ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ।
কলকাতার নামী ক্লাবগুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিত্যনতুন উপহার দেওয়ার চেষ্টা করে লুমিনাস ক্লাব। এবার তাদের ভাবনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মায়ানমারের বৌদ্ধ মন্দির।
মণ্ডপ সজ্জায় বস্ত্র শিল্পের বিশেষ বার্তা
মণ্ডপ তৈরির কাজ প্রায় চার মাস আগে থেকেই শুরু করা হয়েছিল বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। এই মণ্ডপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর সজ্জা এবং থিমের বার্তা।
বুদ্ধের শিল্পকার্য: মণ্ডপের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে বুদ্ধের বিভিন্ন রূপের নান্দনিক শিল্পকার্য।
বস্ত্র শিল্পকে উজ্জীবিত করা: মণ্ডপ সজ্জায় জোর দেওয়া হয়েছে বস্ত্র শিল্পের উপর। উদ্যোক্তাদের মতে, বর্তমানে রাজ্যে বস্ত্র শিল্প অতি গুরুত্বপূর্ণ, সেই শিল্পকে আরও উজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যেই এই ভাবনা।
ব্যবহৃত উপকরণ: মণ্ডপের ভিতরের সজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে পাটকাঠি, চামচ এবং বেলের খোল-এর মতো অভিনব উপকরণ। এছাড়াও নামী বস্ত্র শিল্পীদের দিয়ে মণ্ডপ তৈরির কাজ করানো হয়েছে। ভিতরের শয্যায় ব্যবহৃত হয়েছে বিভিন্ন পাহাড়ি ফুলও।
উদ্বোধনের পর থেকেই জনস্রোত
ইতিমধ্যেই এই পুজোর উদ্বোধন হয়ে গিয়েছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, উদ্বোধনের পর থেকেই প্রতিদিন সকাল থেকে প্রচুর মানুষের সমাগম দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের কৃত্রিম আলোয় মণ্ডপ আরও বেশি সুন্দর লাগবে বলে দাবি তাঁদের।
দর্শনার্থীদের বিপুল ভিড়ের কারণে প্রশাসন এবং উদ্যোক্তাদের তরফে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেশি ভিড়ের ফলে যাতে কোনো রকম দুর্ঘটনা না ঘটে, সেই কারণে এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিল্পের নৈপুণ্য আর পরিবেশিত বার্তার সমন্বয়ে কল্যাণীর এই পুজো এবারও মানুষের মন জয় করতে প্রস্তুত।