মুম্বাইয়ের কনক্লেভে বিস্ফোরক আদিত্য ঠাকরে, “ভোট চুরি” থেকে “নপুংসক হিন্দুত্ব”, বিজেপিকে কড়া আক্রমণ

মুম্বাইয়ে একটি মিডিয়া কনক্লেভে শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা এবং ওয়ারলির বিধায়ক আদিত্য ঠাকরে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, রাহুল গান্ধী যেমন ভোট চুরির ইস্যুটি তুলেছেন, তিনিও তেমনই মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে ‘ভোট চুরি’ নিয়ে একটি বড়সড় তথ্য ফাঁস করবেন। আদিত্য জানান, তাদের দল আগেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিল যে নির্বাচনের ঠিক আগে ভোটারদের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে, অনেক নাম ভোটার তালিকা থেকে গায়েব হয়ে গেছে এবং ভোটকেন্দ্রেও কারচুপি হয়েছে।

আদিত্য বলেন, এই সমস্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং শীঘ্রই একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে তা জনসাধারণের সামনে পেশ করা হবে। কবে এই ফাঁস করা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মতো আমরা আমাদের সময় বলি না।”

নির্বাচনী কারচুপি এবং বিএমসি নির্বাচন

‘ইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভ ২০২৫’ অনুষ্ঠানে আদিত্য ঠাকরে বলেন যে তার দল নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছে, কিন্তু এতে অনেক ত্রুটি ছিল, যা জনগণের সামনে আনা হবে। তিনি বলেন, জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে বিএমসি নির্বাচন হওয়ার কথা, তাই নির্বাচন স্বচ্ছভাবে হওয়া খুব জরুরি।

সরকারের ওপর কটাক্ষ

রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করে আদিত্য বলেন, “এক উপ-মুখ্যমন্ত্রী নিজের গ্রামে গিয়ে কাঁদেন, তো আরেকজন দিল্লি গিয়ে অভিযোগ করেন। এটাই কি সরকার চালানোর পদ্ধতি?” একনাথ শিন্ডেকে ইঙ্গিত করছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কাপুরুষদের নাম আমি নিই না।”

বিজেপি ও হিন্দুত্ব নিয়ে তীব্র আক্রমণ

উদ্ধব ঠাকরের সম্ভাব্য বিজেপি-তে ফিরে যাওয়ার জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে আদিত্য বলেন, “কিছু বিষয়ে কোনো আপস হতে পারে না। যে ভাবে সরকার চলছে, যে ভাবে মুম্বাই এবং রাজ্যকে লুঠ করা হচ্ছে, তাতে কোনো আপস সম্ভব নয়।”

হিন্দুত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি আমাদের সার্টিফিকেট দেওয়ার কে? আমরাই সেই দল যার নেতা উদ্ধব ঠাকরে তিনবার অযোধ্যায় গিয়েছেন। আমি গর্বের সাথে বলি আমি একজন হিন্দু। কিন্তু আমি বিজেপির সেই হিন্দুত্বকে মানি না, যেখানে কাউকে তার পছন্দের খাবারের জন্য জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়।”

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বিরুদ্ধে

এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বিরুদ্ধেও কথা বলেন আদিত্য। তিনি বলেন, “আমি এমন কোনো ম্যাচ দেখি না, যেখানে ভারত এবং পাকিস্তান খেলে। যদি আমি জয় শাহের জায়গায় থাকতাম, তাহলে আইসিসি-তে গিয়ে এসব ম্যাচ বয়কট করতাম। এটা আমার নীতির বিরুদ্ধে।”