পুজোর আগে ‘টাকার গাছ’ বাবুই ঘাস! ঝাড়গ্রামের গ্রামে গ্রামে উৎসবের মরশুমে কেন এই বিশেষ ঘাসের চাহিদা আকাশছোঁয়া?

উৎসবের মরশুম মানেই শুধু আনন্দ নয়, ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার বহু মানুষের কাছে এটি জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম। দুর্গাপূজা যত ঘনিয়ে আসে, ততই এই অঞ্চলে এক বিশেষ ঘাস, বাবুই ঘাসের, চাহিদা আকাশছোঁয়া হয়। এই বাবুই ঘাস থেকেই তৈরি হয় শক্তপোক্ত ও টেকসই বাবুই দড়ি, যা পুজোর প্যান্ডেল বাঁধা, আলোকসজ্জা, মূর্তি স্থাপন ও অন্যান্য কাজে অপরিহার্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এ বছরও প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার বিভিন্ন বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ দড়ির অর্ডার এসেছে। অর্ডারের পরিমাণ অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় গ্রামগুলোতে এখন বাবুই ঘাস কাটার ধুম পড়েছে। মাঠে নেমে সকলে জোরকদমে ঘাস কেটে, শুকিয়ে, তারপর দড়ি বানানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
এখানকার অনেক মানুষ জানিয়েছেন, কৃষিকাজ বা অন্যান্য শ্রমে আর্থিক লাভ না হওয়ায় তাঁরা এখন বাবুই দড়ি তৈরিকে জীবিকার প্রধান ভরসা বানিয়েছেন। এই শিল্পে তেমন পুঁজি লাগে না, কিন্তু চাহিদা বেশি থাকায় আয় তুলনামূলকভাবে ভালো।
ঝাড়গ্রামের ওদোলচুয়া গ্রামের বাসিন্দা সাহেব মাহাত বলেন, “আগে শুধু চাষের কাজ করতাম। কিন্তু চাষে খরচ বেশি, লাভ কম। এখন বাবুই ঘাস কেটে দড়ি বানিয়ে হাটে বিক্রি করছি। এই সময়ে ভাল দাম পাওয়া যায়, সংসারের খরচ মেটাতে সুবিধে হচ্ছে।” এই কাজে মহিলারাও সমানভাবে যুক্ত হচ্ছেন, যা পরিবারের হাতে বাড়তি টাকা এনে দিচ্ছে এবং উৎসবের মরশুমের খরচের চাপ সামলাতে সাহায্য করছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, হাটে দড়ির চাহিদা এতটাই বেশি যে অনেক সময় সরবরাহ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। চাহিদা বেশি থাকায় বাজারদরও তুলনায় ভালো, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে কিছুটা হলেও চাঙ্গা করেছে।
উৎসবের আনন্দ যেমন মানুষকে একত্র করছে, তেমনই বাবুই ঘাস ও দড়ির শিল্প গ্রামীণ কর্মসংস্থানে নতুন দিশা দেখাচ্ছে। বেলপাহাড়ি ও তার আশপাশের জনপদে প্রায় প্রতিটি গ্রামেই এই কাজ চলছে জোরকদমে। এতে একদিকে যেমন অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তেমনই দরিদ্র মানুষের মুখে হাসিও ফুটেছে। দুর্গাপূজার আবহ তাই শুধু ধর্মীয় উৎসবের আনন্দই নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে হাজারও মানুষের রুটি-রুজির গল্প।