’৭১-এর যুদ্ধ থেকে কার্গিল হয়ে বালাকোট, ৬০ বছর পর অবসর নিচ্ছে MiG-21

ছয় দশকের গৌরবময় কর্মজীবনের ইতি টানছে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম জনপ্রিয় ফাইটার জেট মিগ-২১ (MiG-21)। ২৬ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার চণ্ডীগড় এয়ার ফোর্স স্টেশনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কিংবদন্তি যুদ্ধবিমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হবে। যে কয়েকটি মিগ-২১ এখনও পরিষেবা দিচ্ছিল, সেগুলি ২৩ নম্বর স্কোয়াড্রন ‘প্যান্থার’-এর অধীনে ছিল।
১৯৬৩ সালে এই চণ্ডীগড় বেসেই প্রথম ভারতীয় বিমানবাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল মিগ-২১। সেই স্থান থেকেই ৬১ বছর পর এটি তার চূড়ান্ত উড়ান শেষে অবসর নেবে। এই বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য বুধবার ফুল-ড্রেস রিহার্সাল সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট প্রথা মেনে একটি ফ্লাই-পাস্ট দেওয়া হয়।
মিগ-২১-এর গৌরবময় ইতিহাস
মূলত রাশিয়ার তৈরি এই যুদ্ধবিমানটি এক সময়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কমব্যাট ফ্লিটের প্রধান শক্তি ছিল। দশকের পর দশক ধরে ৮৭০টিরও বেশি মিগ-২১ যুদ্ধবিমান ভারতীয় বিমানবাহিনীতে আনা হয়েছিল। সামরিক ইতিহাসে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
১৯৬৫ এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধ: ১৯৬৫ এবং ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আকাশপথে লড়াইয়ে মিগ-২১ এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা থেকে শুরু করে কৌশলগত হামলায় এটি অত্যন্ত কার্যকর ছিল।
কার্গিল যুদ্ধ (১৯৯৯): ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধেও মিগ-২১ তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছিল, যা ভারতীয় সেনাদের স্থলভাগে অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।
বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক (২০১৯): ২০১৯ সালে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকে এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছিল, যা এর কার্যকারিতার একটি বড় প্রমাণ।
বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহান, আর্মি চিফ উপেন্দ্র দ্বিবেদী, এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং এবং নেভি চিফ অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী-এর মতো শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের। ৬ দশকের দাপট শেষে মিগ-২১-এর এই অবসর ভারতীয় সামরিক ইতিহাসে একটি যুগের সমাপ্তি বলে বিবেচিত হচ্ছে।