“ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে পারবে না যে কেউ”- EC চালু করছে নয়া ব্যবস্থা

‘ভোটচুরি’র অভিযোগে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একযোগে তোপ দাগার পর, এবার বিতর্ক রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিল কমিশন। ভোটার তালিকায় তথ্য সংশোধন, নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন ‘ই-সাইন’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা কার্যকরভাবে আধার সংযুক্ত মোবাইল নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে।

কী এই নতুন ‘ই-সাইন’ ব্যবস্থা?
এত দিন ভোটার তালিকায় নাম তোলা, বাদ দেওয়া বা তথ্য সংশোধনের জন্য শুধুমাত্র ভোটারের এপিক নম্বর দিলেই চলত। কিন্তু এখন থেকে আবেদনকারীকে ফর্ম পূরণের সময় তাঁর আধার কার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করতে হবে।

ফর্ম জমা দেওয়ার সময় একটি স্বয়ংক্রিয় ‘ই-স্বাক্ষর’ পোর্টাল খুলে যাবে। সেখানে আবেদনকারীকে আধার নম্বর দিতে হবে, যার পর আধার নম্বরের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) আসবে। সেই ওটিপি দিলে তবেই আবেদন জমা পড়বে।

কেন এই নতুন নিয়ম?
রাহুল গান্ধী সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, কর্ণাটকের আলন্দ বিধানসভায় ৬ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের রাজুরাতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তাঁর। যদিও নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে এবং আলন্দ ও রাজুরাতে এ বিষয়ে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে।

তবে, এই ধরনের বিতর্ক এড়াতে এবং ভবিষ্যতে অবৈধভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা ভুয়া আবেদন করার সুযোগ কমাতে কমিশন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এই নতুন ‘ই-সাইন’ ব্যবস্থা ভুয়ো আবেদন বা বেআইনি কার্যকলাপ অনেকটাই কমিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন মনে করে, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটার তালিকা আরও স্বচ্ছ এবং নির্ভরযোগ্য হবে, যা গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি মজবুত করবে।