লেহ-তে ‘কারফিউ’! সহিংস বিক্ষোভের নেপথ্যে কী? কেন্দ্র দুষছে সোনম ওয়াংচুককে, তিনি কী বললেন?

শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলাকালীন হঠাৎই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল লাদাখ। পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে চলা এই বিক্ষোভ বুধবার মারাত্মক সহিংস রূপ ধারণ করে। ২০১৯ সালে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (UT) মর্যাদা লাভ করার পরও স্থানীয়রা মনে করছেন, তাঁদের ভূমি, পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় হুমকির মুখে।
অ্যাপেক্স বডি অফ লেহ এবং কর্গিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সের নেতৃত্বে গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে লেহে ১৫ দিনের অনশন শুরু করেছিলেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
বুধবার সকাল ১১:৩০ নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আন্দোলনকারীরা বিজেপি অফিস, লেহের চিফ এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল (CEC) অফিস এবং পুলিশ/সিআরপিএফের (CRPF) গাড়িতে হামলা চালায়। একাধিক অফিসে ও যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় গুলি চালাতে বাধ্য হয়। এই মারাত্মক সহিংসতায় পুলিশসহ কমপক্ষে ৮০ জন আহত হয়েছেন এবং ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি সামলাতে লেহ জেলায় কারফিউ জারি, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ এবং বিএনএসএস-এর ধারা ১৬৩-এর অধীনে সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এদিকে, লেহে ঘটা এই সহিংসতার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি সোনম ওয়াংচুককে দায়ী করেছে। কেন্দ্রের দাবি, তাঁর ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য’ বিক্ষোভকারীদের উত্তেজিত করেছে। যদিও ওয়াংচুক এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।
সহিংসতার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে সোনম ওয়াংচুক বলেন, তিনি সহিংসতা সমর্থন করেন না এবং এটি তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে তিনি আরও দাবি করেন, লেহে পুলিশের গাড়ি এবং বিজেপি অফিসে আগুন লাগানোর ঘটনা আসলে ‘মানুষ বিজেপির উপর ক্ষুব্ধ’ থাকারই বহিঃপ্রকাশ।