“আরব বসন্ত, নেপাল Gen Z…;”-সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে উস্কানির অভিযোগ, বিক্ষোভে মৃত ৪

দেশের অন্যতম শান্তিপূর্ণ অঞ্চল লাদাখ হঠাৎই রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। বুধবার লেহতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসে, যার ফলস্বরূপ হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। পাথর নিক্ষেপ, পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি থেকে শুরু করে বিজেপি অফিসে আগুন লাগানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। এই হিংসায় এখনও পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লেহ এবং কার্গিলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে।
সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
এই হিংসার নেপথ্যে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের ‘উস্কানি’ রয়েছে বলে দাবি করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এক বিবৃতিতে মন্ত্রক জানিয়েছে, সোনম ওয়াংচুক ‘আরব বসন্ত’ এবং নেপালে ‘জেন জি’ বিক্ষোভের কথা বলে জনতাকে হিংসায় প্ররোচনা দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, আমির খান অভিনীত জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘থ্রি ইডিয়টস’ সোনম ওয়াংচুকের জীবনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
কী কারণে এই বিক্ষোভ?
সোনম ওয়াংচুক লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্তির দাবি করছেন। এই দাবি নিয়ে তিনি ১০ সেপ্টেম্বর থেকে অনশন শুরু করেছিলেন। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, তাঁর দাবিগুলি ইতিমধ্যেই উচ্চতর কমিটিতে বিবেচনাধীন রয়েছে। একইসঙ্গে, সরকার লাদাখের সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানানো হয়েছে। মন্ত্রকের মতে, লাদাখে তফসিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষণ ৪৫% থেকে বাড়িয়ে ৮৪% করা হয়েছে, কাউন্সিলগুলিতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ভোটি ও পুরগি ভাষাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ১,৮০০ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
আগুনে পুড়ল পার্টি অফিস
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর বুধবার লেহ-তে বিক্ষোভকারীরা একটি রাজনৈতিক দল এবং সেন্ট্রাল এক্সিকিউটিভ কমিটির (CEC) অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশের গাড়িও পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ৩০ জনের বেশি নিরাপত্তাকর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়, যার ফলে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। বিকেল ৪টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মন্ত্রক আরও অভিযোগ করেছে, হিংসার মাঝেও ওয়াংচুক তাঁর অনশন ভেঙে নিজের গ্রামে ফিরে গিয়েছেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার কোনো চেষ্টা করেননি।