২০০ বছরের শাপমোচন! অষ্টমী রাতে শাড়ি পরে গরবা নাচেন গুজরাটের হাজার হাজার পুরুষ, নেপথ্যে এক মহিলার ভয়ঙ্কর অভিশাপ!

প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এক আশ্চর্য প্রথা আজও নিষ্ঠা ভরে পালন করা হয় গুজরাটে। এই প্রথাটি সাদু মাতা নামে এক মহিলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং পুরুষদের শাপমোচনের এক অভিনব আচার।
কথিত আছে, প্রায় দুই শতাব্দী আগে সাদু বেন নামে এক মহিলা গুরুতর বিপদে পড়েছিলেন। সেই সময় তিনি আশেপাশে থাকা পুরুষদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলে, সকলে তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেন। এর ফলে ক্রোধে অন্ধ হয়ে সাদু বেন ওই পুরুষদের অভিশাপ দেন।
মনে করা হয়, সেই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতেই গুজরাটের বারোট সম্প্রদায়ের পুরুষরা বছরের পর বছর ধরে এক বিশেষ নিয়ম পালন করে চলেছেন।
প্রতি বছর নবরাত্রির অষ্টম রাতে গুজরাটের আহমেদাবাদে বারোট সম্প্রদায়ের পুরুষরা নিয়মানুযায়ী শাড়ি পরে গরবা নাচে অংশ নেন। এই প্রথাটি স্থানীয়ভাবে ‘শেরী গরবা’ নামে পরিচিত।
আহমেদাবাদের ‘সাদু মাতা নি পোল’ নামে এক জনবহুল এলাকায় সাদু মাতার মন্দির প্রতিষ্ঠিত। এই সম্প্রদায়ের পুরুষরা প্রতি নবরাত্রির অষ্টমীর রাতে সেই মন্দিরে পুজো দেন। পুজোর শেষে তাঁরা নারী বেশে শাড়ি পরে অত্যন্ত ভক্তি ভরে গরবা নাচেন। বারোট সম্প্রদায়ের মানুষের বিশ্বাস, এই প্রথা পালনে তাঁদের সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি আসে এবং সন্তানদের জীবন মঙ্গলময় হয়।
এই গভীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যটি আসলে দেবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং পূর্বপুরুষদের করা অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্ত করার একটি সম্মিলিত প্রয়াস হিসেবে বিবেচিত হয়।