রেকর্ড বৃষ্টির ধাক্কা কাটিয়ে ফের উৎসবের মেজাজে কলকাতা, মণ্ডপে মণ্ডপে যুদ্ধকালীন তৎপরতা

রেকর্ড বৃষ্টির ধাক্কা কাটিয়ে ফের উৎসবের মেজাজে কলকাতা, মণ্ডপে মণ্ডপে যুদ্ধকালীন তৎপরতা

সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত মুষলধারে রেকর্ড বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত শহরের জনজীবন। হাঁটু থেকে কোমর জল— বিপর্যয়ের এই ছবি দুর্গাপূজার উৎসবময় আলোকোজ্জ্বল পরিবেশকে মুহূর্তেই বদলে দিয়েছিল। তবে বরুণদেব কিছুটা সদয় হওয়ায় বুধবার সকাল থেকে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। ক্লাব কর্তাদের নাছোড় মনোভাবের দৌলতে বিপর্যস্ত শহর ফের উৎসবমুখর হতে শুরু করেছে।

জল নামতেই ‘ফিনিশিং টাচ’ শুরু
গত দু’দিনের দুর্যোগে রাজপথ চলে গিয়েছিল জলের তলায়, যার জেরে শহরের একাধিক পুজো মণ্ডপ কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। জল জমে থাকার কারণে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পরপর মৃত্যুর ঘটনার পর ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের তরফে সামাজিক মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার আবেদন জানানো হয়। বহু কমিটি দর্শকদের কাছে একদিন-দুদিন পর মণ্ডপে আসার অনুরোধ করেছিল।

তবে বুধবার জল নামতেই ছবিটা পাল্টে গেল। কমিটিগুলো বাড়িতে বসে না থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করে দিয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বৃষ্টি ও জমা জলে মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরে যেখানে যেমন ক্ষতি হয়েছে, তা দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে দিনভর। উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, দ্রুত কাজ শেষ হলেই বিদ্যুতের তার পরীক্ষা করে দর্শকদের জন্য মণ্ডপ খুলে দেওয়া হবে।

কবে খুলছে মণ্ডপ? উদ্যোক্তাদের আশ্বাস
পুজো কমিটিগুলো জোর দিয়ে জানাচ্ছে, প্রকৃতির এই জোরালো ধাক্কা সামলে তারা প্রস্তুত। হাতিবাগান নবীনপল্লির তরফে দীপ্ত ঘোষ বলেন, “আমরা ২৫ তারিখ প্যান্ডেল সাধারণের জন্য খোলার কথা বলেছিলাম। বৃষ্টিতে দেওয়ালের রং চটেছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলাম। আজ আবহাওয়া ঠিক থাকলে আশা করছি কাল থেকে মণ্ডপে প্রবেশ করবেন দর্শকরা।”

হাতিবাগান সর্বজনীনের পুজো কর্তা অনিন্দ্য দাশগুপ্ত জানান, তাঁরা বৃষ্টির জন্য প্রস্তুতি নিয়েই নেমেছিলেন। তিনি বলেন, “কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও সামলে নিতে পেরেছি। আজকে সারাদিন বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুতের তার, আলো ইত্যাদিতে। সেটা দেখে নিয়ে মণ্ডপ খুলে দেব।”

দেশপ্রিয় পার্ক দুর্গাপুজো কমিটির কর্মকর্তা সুদীপ্ত কুমার বলেন, “মাঠের জল নেমে গিয়েছে। আজ উদ্বোধন ছিল, সেটা একটু পিছিয়ে করতে হচ্ছে। মাঠে কাদা আছে। আজকের আবহাওয়া ঠিক থাকলে আজ-কালের মধ্যেই আমরা দ্রুত মণ্ডপ খুলে দেব।”

যদিও ব্যবসায়ীদের ক্ষতির জন্য পুজো উদ্যোক্তারা সমব্যথী, তবুও সকলের যৌথ উদ্যোগে দুর্যোগ কাটিয়ে উৎসবের আবহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে জোরকদমে।