হায়রে কপাল, ৩ লক্ষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ ৭ হাজারও নয়! ২০২২-এর নিয়োগ জটের মাঝেই ২০২৩-এর ফল নিয়ে চরম উদ্বেগ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রকাশিত হলো ২০২৩ সালের প্রাথমিক টেট (Primary TET) পরীক্ষার ফলাফল। গত বছর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলেও, পাশের হার নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সূত্রে খবর, এই পরীক্ষায় মোট উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৬ হাজার ৭৫৪ জন, অর্থাৎ পাশের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.৪ শতাংশ। প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৮ শতাংশই পাস করতে পারেননি।
ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা ও নজিরবিহীন হার
দীর্ঘ ১ বছর ৯ মাস পর দুর্গাপূজার ঠিক মুখে এই ফল প্রকাশিত হল। দীর্ঘদিন ধরেই ফল প্রকাশে দেরি নিয়ে লাগাতার প্রশ্ন উঠছিল। তবে ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, পাশের হার কেবল হতাশাজনকই নয়, কার্যত নজিরবিহীন। মোট ২ লক্ষ ৭৩ হাজার ১৪৭ জন পরীক্ষার্থী ২০২৩ সালের টেটে বসেছিলেন, কিন্তু ২.৫ শতাংশ ছেলেমেয়েও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ জানিয়েছে, বিকেল ৫টার পর পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরীক্ষার্থীরা পর্ষদের ওয়েবসাইটে (wbbpe.wb.gov.in) ফলাফল দেখতে পাচ্ছেন। আগামী কাল দুপুর ২টো থেকে পরীক্ষার্থীরা তাঁদের ওএমআর শিটের ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।
চিন্তায় কর্মরত শিক্ষকরাও
নিদারুণ এই ফল রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। টেটের ১৫০ নম্বরের পরীক্ষায় সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের পাশ করতে গেলে কমপক্ষে ৯০ নম্বর পেতে হয়। পর্ষদ জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী ৯০-এর নীচে নম্বর পাওয়ায় পাশের হার এত কমে এসেছে।
বর্তমানে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, কর্মরত সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাকে টেট পাশ করতেই হবে। পর্ষদ সূত্রে খবর, এই শিক্ষকদের মধ্যে এখনও প্রায় ৫০ হাজার জন টেট পাশ করেননি। নতুনদের যদি এমন করুণ হাল হয়, তবে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করে আসা ওই ৫০ হাজার শিক্ষকের ফলাফল কী হবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, ২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণরা এখনও নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ায়, নতুন এই ফল নিয়োগ প্রক্রিয়ার চাপ আরও বাড়াল।