কলকাতার বানভাসী পরিস্থিতিতে এবার আসরে রাহুল গান্ধী, কেন্দ্র-রাজ্যের কাছে বিশেষ আর্জি, কী বললেন কংগ্রেস নেতা

মঙ্গলবার রেকর্ড-ভাঙা বৃষ্টিতে বানভাসী কলকাতার পরিস্থিতি নিয়ে এবার মুখ খুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। জলমগ্ন তিলোত্তমাকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে কেন্দ্রের কাছে সরাসরি আর্জি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা। বুধবার ‘এক্স’ (সাবেক ট্যুইটার)-এ বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি এই আবেদন করেন তিনি।

রাহুল গান্ধী তাঁর পোস্টে লেখেন, “কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় বন্যাকবলিতদের সাহায্যের জন্য কংগ্রেস কর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি, কলকাতাকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।”

কেন এই হস্তক্ষেপ?
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ব্যাপক বৃষ্টির ফলে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় তড়িৎপৃষ্ট হয়ে মৃতের সংখ্যা ১০-এ পৌঁছেছে। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে চরম দোষারোপের পালা শুরু হয়েছে।

রাজ্যের অভিযোগ: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিপর্যয়ের দায় কার্যত এড়িয়ে সিইএসসি, ডিভিসি-পাঞ্চেত থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশ ও নেপালের বন্যার জলের মতো একাধিক বিষয়ের দিকে আঙুল তুলেছেন।

পাল্টা কটাক্ষ: তৃণমূলের এই অভিযোগের জবাবে স্বভাবতই তীব্র কটাক্ষ করেছে গেরুয়া শিবির। শাসক-বিরোধী এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মাঝে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে সাধারণ কলকাতাবাসীর জীবন।

এই পরিস্থিতিতে শাসক-বিরোধী তরজার ঊর্ধ্বে উঠে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের আর্জি জানালেন রাহুল।

পাঞ্জাবের পর এবার কলকাতা
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বরাবরই এই অভিযোগ করে এসেছেন যে, বিরোধী-শাসিত রাজ্যে কোনো দুর্যোগ এলে মোদী সরকার তাদের সঙ্গে ‘দুয়োরানী’ সুলভ আচরণ করে। এবার পাঞ্জাবের পর কলকাতার বন্যার পরিস্থিতিতেও তিনি কেন্দ্রের সাহায্য প্রার্থনা করলেন।

এর আগে চলতি বছরের বর্ষায় বন্যা বিধ্বস্ত পাঞ্জাবের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতেও রাহুল গান্ধী একাধিকবার কেন্দ্রের সাহায্য চেয়েছিলেন। পাঞ্জাবে ৪ লক্ষ একরের চাষের জমি সহ লক্ষাধিক গবাদি পশু ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও কেন্দ্র মাত্র ১৬০০ কোটি টাকার ত্রাণ ঘোষণা করায় রাহুল কঠোর ভর্ৎসনাও করেছিলেন।

কলকাতার এই জল-যন্ত্রণা এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনার পর রাহুলের এই আবেদন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের উপর কতটা চাপ সৃষ্টি করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।