ইউক্রেনের পর এবার পোল্যান্ড ও এস্টোনিয়া! ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন, রাশিয়াকে চরম হুঁশিয়ারি

ইউরোপ এবং রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ন্যাটো দেশগুলো সম্মিলিত জাতিপুঞ্জে (United Nations) স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে, যদি কোনো রুশ বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে, তাহলে কোনো রকম বিলম্ব না করে সেটিকে গুলি করে নামানো হবে।

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লো সিকরস্কি বলেন, “যদি আমাদের সীমানায় অনুপ্রবেশ ঘটে এবং সেই বিমানকে ধ্বংস করা হয়, তাহলে রাশিয়া যেন আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে না আসে।” পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও একই রকম কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি আগেই বলেছিলেন, “সীমান্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো আলোচনা হবে না, সরাসরি জবাব দেওয়া হবে।”

গত সপ্তাহে এস্টোনিয়া অভিযোগ করেছে যে তিনটি রুশ MiG-31 যুদ্ধবিমান তাদের আকাশসীমায় ১২ মিনিট ধরে ছিল। এর আগে এই মাসেই ২০টি রুশ ড্রোন পোল্যান্ডের সীমান্ত পেরিয়েছিল, যা গুলি করে নামানো হয়েছে। রোমানিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগও রাশিয়ার বিরুদ্ধে উঠেছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেছেন, “রাশিয়া মনে করে তারা যেখানে খুশি সেখানে নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করতে পারে, তা সে ইউক্রেন, বাল্টিক সাগর বা পূর্ব ইউরোপই হোক না কেন।”

রাশিয়া এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন যে এস্টোনিয়ার কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই এবং এসব কেবল উত্তেজনা বাড়ানোর একটি কৌশল। এর উত্তরে এস্টোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গাস সাখনা বলেছেন যে তাদের কাছে এর অকাট্য প্রমাণ আছে এবং রুশ বিমানগুলো সম্পূর্ণরূপে অস্ত্র সজ্জিত ছিল।

ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার রাশিয়ার এই কর্মকাণ্ডকে “বিপজ্জনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, আমেরিকা ন্যাটো মিত্রদের আশ্বাস দিয়েছে যে তাদের “প্রতি ইঞ্চি ভূমির” সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। জাতিসংঘের মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন যে রাশিয়াকে অবিলম্বে এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে।

এই উত্তেজনার মধ্যে মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন যে রাশিয়া অস্ত্রের প্রতিযোগিতা এড়িয়ে চলতে চায়, তবে যদি তার ওপর কোনো হুমকি আসে, তাহলে জবাব দিতে তারা পিছপা হবে না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই উত্তেজনা কি নতুন মোড় নেবে, নাকি কূটনীতি কোনো সমাধান বের করবে।