“মায়ের ভোগে ৭ রকমের মাছ, নিরামিষ মাংস”-সুদিপার বাড়ির পুজোতে হয় কড়া নিয়ম

রান্নাঘর খ্যাত সঞ্চালিকা সুদীপা চট্টোপাধ্যায় এখন তার স্বামীর বাড়ি চ্যাটার্জি পরিবারের দুর্গাপূজার প্রস্তুতিতে মগ্ন। টানা ১৪ বছর ধরে এই পূজা করে আসছেন সুদীপা। এবার ১৫-তে পা দেবে এই পূজা। মায়ের ভোগ থেকে শুরু করে নানা ধরনের আচার-অনুষ্ঠান, সবই নিজে হাতে সামলাচ্ছেন তিনি। সুদীপা জানান, আগে তার মা তাকে সাহায্য করতেন, কিন্তু এখন সমস্ত দায়িত্ব একা হাতে সামলাতে হয়।

সুদীপা জানান, এই বাড়ির মা খুবই জাগ্রত। বিশ্বকর্মা পূজার দিন থেকেই মায়ের গয়না এবং অস্ত্র পালিশ করা হয়। তিনি বলেন, “চমরি গাইয়ের লেজ দিয়ে তৈরি আসল চামরের যত্ন আমাকেই করতে হয়। এটাকে শ্যাম্পু করা, কন্ডিশনিং করা, সবকিছু আমিই করি। এটা খুব স্পর্শকাতর জিনিস, তাই কাউকে বিশ্বাস করি না।” তিনি আরও জানান, পূজার সামগ্রী মাজা থেকে শুরু করে ৫২ বাতির ঝাড়বাতি লাগানো পর্যন্ত সবকিছুর তদারকি তাকেই করতে হয়।

এই বছর সপ্তমী সোমবার হওয়ায় মহাদেবের পূজা হবে। এ উপলক্ষে উজ্জয়িনীর মহাকাল এবং বারাণসী থেকে শিবের ডুগডুগি আনা হয়েছে, যা বাড়ির ছোটরা বাজাবে। সুদীপা বলেন, “আমাদের বাড়িতে প্রতিদিন পাঁচটি করে নতুন শাড়ি, ধুতি এবং গামছা মায়ের জন্য দেওয়া হয়।” সুদীপার ছেলে আদিদেবের অবশ্য এসবের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। তার আগ্রহ শুধু পূজায় কী কী সুস্বাদু খাবার তৈরি হবে তা নিয়ে। বিশেষ করে লুচি প্রতিদিন হবে কিনা, তা নিয়েই তার যত চিন্তা।