জমি বিক্রি না, দালালি করে কোটিপতি! চন্দ্রনাথ সিনহার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ED-র

আজ, শনিবার বিশেষ ইডি আদালতে রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার জামিনের শুনানি। তাঁর ভাগ্য নির্ধারণ হবে আজ। এর ঠিক আগের দিনই ইডি বীরভূমের কিষাণ মান্ডিতে হানা দিয়ে মন্ত্রীর জমি সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ইডি-র লক্ষ্য ছিল, মন্ত্রীর নামে কত জমি রয়েছে, কীভাবে সেই জমি কেনা হয়েছিল, এবং সেই জমি থেকে আয়ের পরিমাণ কত, তা খতিয়ে দেখা।

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতিতে চন্দ্রনাথ সিনহার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। চার্জশিটে ইডি প্রায় ১৩ কোটি টাকার বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর আদালতে ইডির আইনজীবী জানান, মন্ত্রীর জমির ব্যাপারে তাদের কাছে নতুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে। নগদে বিপুল লেনদেনের উৎস হিসেবে চন্দ্রনাথ সিংহ চাষবাসের কথা বললেও, সেই জমি তিনি কখনও নিজের, কখনও পরিবারের, এমনকি দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের নামেও দেখিয়েছেন। ইডি-র দাবি, এই সব আসলে দুর্নীতির টাকা লুকানোর চেষ্টা।

ইডি-র চার্জশিটে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ২০১৬ সালের ইনকাম ডিসক্লোজার স্কিম প্রকল্পে চন্দ্রনাথ সিংহ প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পত্তি দেখান, যার জন্য তার প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা জরিমানা হয়। মন্ত্রী দাবি করেন, এই ৯০ লক্ষ টাকা তিনি জমির দালালি করে পেয়েছিলেন এবং তা তিনি ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টকে দেন। কিন্তু ইডি-র চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেই বছরের ইনকাম ট্যাক্স রিটার্নে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কোনো উল্লেখ নেই। ইডি আরও দাবি করেছে, ২০১৬ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে চন্দ্রনাথ, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের অ্যাকাউন্টে প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি লেনদেন হয়েছে, যা মূলত অযোগ্যদের চাকরি দেওয়ার মাধ্যমে তোলা টাকা। নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত দুই অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষ ও তাপস মণ্ডল লিখিত বয়ানে জানিয়েছেন, চন্দ্রনাথ সিংহ অযোগ্য প্রার্থীদের নামের তালিকা তাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন। ইডি-র দাবি, ১৫৯ জন অযোগ্য প্রার্থীর একটি তালিকা কুন্তলের নিউটাউনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়। ইডি-র ধারণা, ওই ১৫৯ জনের থেকে ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল।