কেন সানস্ক্রিনের মতো প্রলেপ মাখত ৪১ হাজার বছর আগের মানুষ? চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল গবেষণায়

মানব সভ্যতার বিবর্তনের ইতিহাসে একটি চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রায় ৪১ হাজার বছর আগে পৃথিবীর ভূচৌম্বকীয় বলয়ে একটি বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছিল, যা মানব জীবনযাত্রাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল। সাধারণত এই ভূচৌম্বকীয় বলয় মহাকাশ থেকে আসা ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে, কিন্তু সেই সময় এই বলয় দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এই ঘটনাকে বিজ্ঞানীরা ‘ল্যাশম্প এক্সকারসন’ নামে অভিহিত করেছেন।

সম্প্রতি ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ নামক একটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে যে, সেই সময়ে পৃথিবীর আকাশ এক অদ্ভুত রঙিন আলোয় ঢেকে গিয়েছিল। এই আলোর ছটা মেরু অঞ্চল থেকে শুরু করে নিরক্ষীয় অঞ্চল পর্যন্ত দেখা গিয়েছিল। এই মহাজাগতিক বিকিরণের প্রভাব পৃথিবীতে মারাত্মকভাবে পড়েছিল। গবেষকদের মতে, এই অদ্ভুত আলো দেখে মানুষের পূর্বপুরুষেরা যেমন অবাক হয়েছিলেন, তেমনই আতঙ্কিতও হয়েছিলেন। এই বিপর্যয় থেকে বাঁচতে তারা নিজেদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন।

এই মহাজাগতিক বিপর্যয় থেকে নিজেদের বাঁচাতে মানুষ গুহার ভেতরে আশ্রয় নিতে শুরু করে এবং বিশেষ ধরনের পোশাক পরা শুরু করে। ইউরোপের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা থেকে জানা গেছে, ৪১ হাজার বছর আগের মানুষও আজকের মানুষের মতো সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে বিশেষ কৌশল ব্যবহার করত। তারা মুখে ও শরীরে এক ধরনের খনিজ গুঁড়ো মাখত, যা আজকের সানস্ক্রিনের মতোই কাজ করত। এই নতুন গবেষণা প্রমাণ করছে যে, সেই ভয়ঙ্কর মহাজাগতিক বিপর্যয় থেকেই মানবজাতির মধ্যে টিকে থাকার জন্য নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবনের প্রবণতা তৈরি হয়েছিল।