‘গড়িয়াহাট ফ্লাইওভারের যা অবস্থা ছিল, তাই আছে’, রাস্তা পরিদর্শনে গিয়ে মেয়রের সামনে বিস্ফোরক মহিলা

পুজোর আগে কলকাতার রাস্তাঘাট পরিদর্শনে বেরিয়ে এক অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির শিকার হলেন কলকাতা পুরনিগমের মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বেহালার জেমস লং সরণি, শখেরবাজার মতিলাল গুপ্ত রোড এবং হরিদেবপুর মহাত্মা গান্ধী রোড পরিদর্শনের সময় আচমকাই তাঁর গাড়ির সামনে ছুটে আসেন এক মহিলা। তিনি অভিযোগ করেন যে, কলকাতার রাস্তার অবস্থা গত বছরের মতোই শোচনীয় এবং কোনো উন্নতি হয়নি।
১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ওই বাসিন্দা মেয়রকে বলেন, “গত বছর পুজোর সময় গড়িয়াহাট ফ্লাইওভারের যে অবস্থা ছিল, এ বছরও তাই আছে।” তিনি আরও বলেন, “এই যে ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তা ঠিক করা হয়েছে, এক-দু’মাসের মধ্যে আবার খারাপ হবে। আবার সামনের বছর পুজোয় ঠিক হবে।” এই অভিযোগের জবাবে ফিরহাদ হাকিম বলেন, যেখানে জল জমে, সেখানেই রাস্তা খারাপ হচ্ছে। তবে এরপরেই তিনি পুরুলিয়া-বাঁকুড়ার রাস্তার সঙ্গে কলকাতার তুলনা টানতে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।
ওই মহিলা যখন বলেন যে পুরুলিয়া-বাঁকুড়ার রাস্তা ভালো, তখন ফিরহাদ হাকিম বলেন, “ওখানে (পুরুলিয়া-বাঁকুড়ায়) জল নেই, ড্রেন নেই, ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই নেই।” মেয়রের এই মন্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি রাজ্যের অন্য জেলাগুলোতে জল ও বিদ্যুতের মতো প্রাথমিক পরিষেবা নেই?
মেয়রের এই মন্তব্যের পর বিজেপি নেতা সজল ঘোষ তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “অন্যান্য জায়গায় যে ন্যাশনাল হাইওয়ে তৈরি হয়েছে, তার সবই কেন্দ্রীয় সরকার করেছে।” তার কথায়, “যা খাওয়ার খাওয়া হয়ে গিয়েছে। এখন শুধু ঈশ্বরই ভরসা।” পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ হাকিম নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, “কলকাতায় ইউটিলিটি আছে, বাইরে নেই। সেখানে ঝড় হলে বিদ্যুৎ চলে যায়। কলকাতায় কিছু হয় না, কারণ মাটির তলা দিয়ে বিদ্যুতের কানেকশন করা আছে।”