“জামিন মাত্র ১২ ঘণ্টায়”-স্কুলে শিক্ষক পেটানোর অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বীরেন্দ্র বিদ্যানিকেতনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিলনকান্তি পালকে মারধর ও হেনস্থা করার অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ত্রিদিব বারুই মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই জামিন পেয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বুধবার সন্ধ্যায় স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ত্রিদিবকে গ্রেফতার করে।

অভিযোগ, মঙ্গলবার দুপুরে স্কুলের ছাত্রদের সামনেই ত্রিদিব প্রধান শিক্ষককে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেন। এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও সামনে আসে। স্কুলের ভ্রমণের জন্য ছাত্রদের কাছ থেকে টাকা তোলা নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত। পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করলেও বৃহস্পতিবার দুপুরে কাকদ্বীপ মহকুমা আদালত থেকে ত্রিদিব জামিন পেয়ে যান।

জামিনের পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আক্রান্ত প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, “এত তাড়াতাড়ি জামিন পাবেন ভাবিনি। আমার মনে হয় পুলিশ লঘু ধারায় মামলা দিয়েছে বলেই এমনটা হয়েছে।” বিরোধীরাও এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে শাসকদলের নির্দেশে কাজ করার অভিযোগ এনেছে। সিপিএম এবং বিজেপি উভয়েই দাবি করেছে, এটি রাজনৈতিক চাপের ফল, কারণ শাসক দলের নেতা হওয়ায় ত্রিদিবকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কাকদ্বীপের তৃণমূল বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “দল এই ঘটনা সমর্থন করে না, তবে কেন জামিন হয়েছে, তা তদন্তকারী অফিসারই বলতে পারবেন।”