এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ দশম শ্রেণির ছাত্রী, ‘স্বেচ্ছায় চলে যাচ্ছে’ নোটে নতুন মোড়, কী বলছে পুলিশ

চন্দননগরে শিক্ষক দিবসের দিন স্কুল যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ দশম শ্রেণির ছাত্রী। গত এক সপ্তাহ ধরে তার কোনো খোঁজ নেই। পরিবার থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, এখনো পর্যন্ত কোনো হদিস মেলেনি। নিখোঁজ শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়ের (১৫) ঘর থেকে একটি রহস্যজনক ইংরেজি নোট উদ্ধার হয়েছে, যেখানে লেখা আছে, “আমি স্বেচ্ছায় কারও সঙ্গে চলে যাচ্ছি।” এর পর থেকেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারের।
শিক্ষক দিবসের দিনই নিখোঁজ
চন্দননগরের কাঁটাপুকুরে মামার বাড়িতেই থাকত ইমামবাড়ার একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী শর্মিষ্ঠা। গত এক বছরে তার বাবা-মা দু’জনেই মারা গেছেন। গত বছর ডিসেম্বরে তার মা শাশ্বতী এবং এ বছর জুলাইয়ে তার বাবা অরিন্দম মারা যান। বাবা-মাকে হারানোর পর থেকে সে একাই ছিল। গত ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে যাবে বলে বাড়ি থেকে বের হয়। বাড়ির লোকেদের জানায়, ১০০ টাকা দিয়ে টোটো করে সে একাই স্কুলে যাবে। কিন্তু বিকেলে তার বন্ধুরা জানায়, শর্মিষ্ঠা সেদিন স্কুলেই যায়নি।
রহস্যজনক নোট
শর্মিষ্ঠার মামা অমিত পাল জানান, ঘটনার পর শর্মিষ্ঠার ঘর থেকে ইংরেজিতে লেখা একটি নোট পাওয়া গিয়েছে। সেই নোটে সে লিখেছে, “আমি স্বেচ্ছায় কারও সঙ্গে চলে যাচ্ছি।” এই নোটটি পাওয়ার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। শর্মিষ্ঠা কি সত্যিই স্বেচ্ছায় গেছে, নাকি কোনও অসৎ চক্রের ফাঁদে পড়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
পুলিশের তৎপরতা
চন্দননগর থানার পুলিশে অভিযোগ জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। শর্মিষ্ঠার দাদু শঙ্কর পাল ও দিদা পার্বতী পাল তাদের নাতনির জন্য কান্নাকাটি করছেন। বারবার তার ফোনে ফোন করছেন। শর্মিষ্ঠার ফোনটি এখনো পর্যন্ত সুইচ অফ। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এক পুলিশ আধিকারিক সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “নিখোঁজ ছাত্রীর খোঁজ চলছে। মিসিং পোর্টালে তথ্য দেওয়া হয়েছে। ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।” খুব দ্রুতই ছাত্রীর সন্ধান পাওয়া যাবে বলে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়াতেও শর্মিষ্ঠার ছবি দিয়ে খোঁজ চালানো হচ্ছে।