শুধুমাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, সরকারি গাফিলতিই পাঞ্জাবের বন্যার কারণ, বিপর্যস্ত রাজ্যের অভিযোগ

প্রবল বর্ষণ ও নদীর জলে বিপর্যস্ত পাঞ্জাব। রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী বরিন্দর কুমার গয়াল জানিয়েছেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহে হওয়া বন্যায় পাঞ্জাবের প্রায় ১৩,৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যার কারণে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, বহু গবাদিপশু মারা গেছে এবং ৪.৫ লাখ একরেরও বেশি চাষের জমি জলের নিচে তলিয়ে গেছে।
এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে পাঠানকোট জেলার মধ্যপুর ব্যারেজের ফ্লাডগেট ভেঙে যাওয়া। ২৭ আগস্ট প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ব্যারেজের দুটি ফ্লাডগেট ভেঙে যায়, যার ফলে জলসম্পদ দফতরের এক কর্মীর মৃত্যু হয়।
অপ্রতুল ত্রাণ ও গাফিলতির অভিযোগ
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, একটি বেসরকারি সংস্থা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্যারেজের ফ্লাডগেটগুলো ভালো অবস্থায় আছে বলে রিপোর্ট দিলেও, বাস্তবে তা ছিল না। এই কারণে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ব্যারেজের রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির জন্য দায়ী সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে।
জলসম্পদ দফতরের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর পাঞ্জাবের ৮৫ শতাংশ বন্যার কারণ ছিল রবি নদী। এই নদীর জলধারণ ক্ষমতা ৯.৭ লাখ কিউসেক হলেও, এবার তার প্রবাহ ছিল ১৪.১১ লাখ কিউসেক, যা ১৯৮৮ সালের বন্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ভুল আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর
পাঞ্জাব সরকারের অভিযোগ, ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) থেকে সঠিক ও সময়মতো পূর্বাভাস না আসায় বাঁধ থেকে জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়, ফলে বিপর্যয়ের মাত্রা আরও বাড়ে।
রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী বরিন্দর কুমার গয়াল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ২০,০০০ কোটি টাকার বিশেষ ত্রাণ চেয়েছিলাম, কিন্তু কেন্দ্র মাত্র ১,৬০০ কোটি টাকার সাহায্য ঘোষণা করেছে, যা সম্পূর্ণ অপ্রতুল।” তিনি কেন্দ্রের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন, যেখানে বন্যাকে অবৈধ বালি খননের ফল হিসেবে দায়ী করা হয়েছে।
রাজ্যের প্রাক্তন প্রধান ইঞ্জিনিয়ার অমরজিৎ সিং দুল্লেত বলেছেন, “৭০ শতাংশ বন্যাই মানুষের গাফিলতির কারণে ঘটেছে। মধ্যপুর হেডওয়ার্কসের গেট ভেঙে যাওয়া স্পষ্ট করে যে রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি ছিল।” তিনি দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। এই বছরের বন্যা শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং সরকারি গাফিলতি, ভুল আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং নদী ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সম্মিলিত ফল।