প্রয়াণের পরও সার্থক অঙ্গদানের বার্তা, অঙ্গদানে নজির গড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন স্বাস্থ্য অধিকর্তা

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ছিলেন। অঙ্গদানের গুরুত্ব নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে গিয়েছেন। মৃত্যুর পরও তার সেই চেষ্টা থামল না। অঙ্গদানের মাধ্যমে তিনি বেঁচে রইলেন আরও অনেকের শরীরে। শুধু তাই নয়, অঙ্গদানের ক্ষেত্রে তিনি তৈরি করলেন এক নজির। তিনিই পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণতম ব্যক্তি, যার অঙ্গদান করা হল।

তিনি হলেন রাজ্যের প্রাক্তন স্বাস্থ্য অধিকর্তা সঞ্চিতা বক্সী। গত ১১ সেপ্টেম্বর তাঁর ‘ব্রেন ডেথ’ হয়। এর পর ৭৬ বছর বয়সী সঞ্চিতা বক্সীর একাধিক অঙ্গ দান করা হয়। এই অঙ্গদানের মাধ্যমে চলতি বছরে বাংলায় অঙ্গদানের সংখ্যা দাঁড়াল ১৪।

পরিবারের সম্মতিতে অঙ্গদান, সুস্থ আছেন দুই রোগী
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিউটাউনের বাসিন্দা সঞ্চিতা বক্সী দীর্ঘদিন ধরে বয়সজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। ৯ সেপ্টেম্বর রাতে তার ব্রেন স্ট্রোক হয় এবং তাকে মুকুন্দপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

১১ সেপ্টেম্বর তার ব্রেন ডেথ হলেও, পরিবারের ইচ্ছায় আরও দু’দিন তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। পরিবারের সম্মতিতে ১৩ সেপ্টেম্বর তার একাধিক অঙ্গ দান করা হয়। সেই রাতেই তার লিভার ও কিডনি দুজন রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। তার লিভার প্রতিস্থাপিত হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪৮ বছর বয়সী এক পুরুষের শরীরে, আর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে মুকুন্দপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪৯ বছর বয়সী এক মহিলার শরীরে। বর্তমানে দুজন রোগীই সুস্থ আছেন। এছাড়া, তার কর্নিয়াও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

অঙ্গদানে নজির গড়লেন প্রবীণতম ব্যক্তি
সারা দেশে অঙ্গদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের অধীনস্থ ‘নোটো’ (NOTTO)। এই সংস্থার অধীনেই কাজ করে আঞ্চলিক ও রাজ্য অঙ্গদান সংস্থাগুলি। কলকাতা থেকে পরিচালিত হয় পূর্বাঞ্চলের ‘রোটো’ (ROTTO)।

সঞ্চিতা বক্সীর অঙ্গদানের বিষয়টি এই সংস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। তারাই জানিয়েছে যে, এর আগে এত বেশি বয়সের কারও অঙ্গদান করা হয়নি। ফলে তিনিই রাজ্যের প্রবীণতম ব্যক্তি যার অঙ্গদান করা হলো। সঞ্চিতা বক্সীর বড় মেয়ে অনিন্দিতা বক্সী বলেন, “আমার মা অঙ্গদানে ইচ্ছুক ছিলেন। মা চাকরিজীবনেও এই ধরনের অনুষ্ঠানে সবসময় উপস্থিত থাকতেন। মাকে আমরা হারাচ্ছি, কিন্তু এতগুলো মানুষের মধ্যে আমরা মাকে ধরে রাখব।”

উল্লেখ্য, তিন দশক ধরে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দফতরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন সঞ্চিতা বক্সী। ২০০৬ সালে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা পদে নিযুক্ত হওয়ার পর ২০০৯ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। তার জীবদ্দশায় অঙ্গদান ও প্রতিস্থাপনের জীবনরক্ষাকারী গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি সক্রিয়ভাবে সচেতনতা বাড়িয়েছিলেন, আর প্রয়াণের পর নিজের অঙ্গদানের মাধ্যমে সেই প্রচেষ্টার বৃত্ত সম্পূর্ণ করলেন।