উত্তরাখণ্ডে আবারও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভূমিধস ও বন্যায় মাটির সঙ্গে মিশে গেল চারটি গ্রাম, নিখোঁজ ১৪ জন

উত্তরাখণ্ডে টানা ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের জেরে আবারও ভয়াবহ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। চামোলি জেলার নন্দনগর অঞ্চলের চারটি গ্রাম— কুনতারি লাগাফালি, কুনতারি লাগাসরপানি, সেরা এবং ধুরমা— কার্যত মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে এই ভূমিধস ও বন্যায় ৩০টিরও বেশি বাড়ি, দোকান এবং গোয়ালঘর চাপা পড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ১৪ জন নিখোঁজ এবং কমপক্ষে ২০ জন আহত বলে জানিয়েছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০০-এর বেশি। গুরুতর আহতদের মধ্যে এক শিশুকে হেলিকপ্টারে করে এআইআইএমএস হৃষীকেশে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি এদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চামোলির জেলাশাসক সন্দীপ তিওয়ারির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মোক্ষ নদীর জলস্ফীতি ও কাদা-বোল্ডারে ব্যাহত উদ্ধারকাজ
মোক উপত্যকায় ভারী বৃষ্টির জেরে মোক্ষ নদীর জলস্তর অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। নদীর তীর ভেঙে ধুরমা থেকে সেরা পর্যন্ত একাধিক বাড়ি ভেসে গেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্তত ছয়টি বাড়ি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এর মধ্যে কুনতারি লাগাফালি গ্রামের এক পরিবারের চার সদস্য-সহ আটজন নিখোঁজ রয়েছেন। ধুরমা গ্রামে নিখোঁজ আরও দুজন। মুখ্যমন্ত্রী ধামি দ্রুত তাদের খুঁজে বের করার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে, ক্রমাগত কাদা ও বোল্ডার নেমে আসায় উদ্ধারকাজ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইন্ডিয়ান রেড ক্রসের স্থানীয় শাখার সহ-সভাপতি নন্দন সিং জানান, তিন দিক থেকে ধসে পড়া মাটি গ্রামগুলোকে গ্রাস করে নিয়েছে। বহু মানুষ অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেও গুরুতর আহত হয়েছেন।
আগের ভূমিধসের আতঙ্ক ও নতুন বিপর্যয়
উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসেও নন্দনগর অঞ্চলে ভূমিধসের কারণে একাধিক বাড়ির দেওয়ালে ফাটল দেখা গিয়েছিল। সে সময় গ্রামবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এবার নতুন করে এই বিপর্যয় হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক আরও গভীর হয়েছে।
এর দুদিন আগেই দেরাদুন এবং সংলগ্ন অঞ্চলে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ধসের জেরে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ১৭ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন। এরপর চামোলির এই বিপর্যয় রাজ্যের আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, এনডিআরএফ ও এসডিআরএফের দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে।