রবীন্দ্রনাথের প্রতিবেশী হয়েও কেন দেখা করতে যাননি হারাধন? জেনে নিন কিংবদন্তি অভিনেতার জীবনের অজানা কাহিনি!

ভারতীয় সিনেমার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়। সত্যজিৎ রায়ের প্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম তিনি, যার অভিনয় ‘মহানগর’, ‘সোনার কেল্লা’ এবং ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’-এর মতো ছবিতে আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে। শুধু বাংলা নয়, বলিউডেও ‘বরফি’ এবং ‘পরিণীতা’-র মতো ছবিতে তার অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। কিন্তু সিনেমার জগত নয়, তার কর্মজীবনের শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকম। ব্রিটিশ কোম্পানি থেকে শুরু করে বাটা জুতো কোম্পানি, এমনকি ব্রিটিশ বিমান সংস্থাতেও কাজ করেছেন তিনি। তবে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন তিনি রেডিওতে অনুষ্ঠান সঞ্চালনার সুযোগ পান। তার অসাধারণ কণ্ঠস্বর তাকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে।
সময়টা ছিল স্বাধীনতার আগের ভারত। যখন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে স্বদেশী আন্দোলনের আগুন জ্বলছিল, ঠিক সেই সময়েই হারাধন মোটা মাইনের ব্রিটিশ বিমা সংস্থার চাকরি ছেড়ে কলকাতার বেতার কেন্দ্রে (আকাশবাণী কলকাতা নামকরণ তখনও হয়নি) যোগ দেন। বেতন কম হলেও, প্রথিতযশা শিল্পীদের কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের গান বিনা পয়সায় শোনার লোভ সামলাতে পারেননি তিনি। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, রবীন্দ্রনাথের একজন বড় ভক্ত হওয়া সত্ত্বেও, তিনি জীবিত থাকাকালীন তাকে একবারও দেখতে যাননি।
কলকাতা থেকে রবীন্দ্রনাথ নিয়মিত কুষ্টিয়ায় যাতায়াত করতেন। কুষ্টিয়া রেলস্টেশনের পাশেই ছিল তার বাড়ি, আর সেই বাড়ির পাশেই ছিল হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। রবীন্দ্রনাথকে সামনাসামনি দেখার বহু সুযোগ পেয়েও তিনি তা কাজে লাগাননি। উল্টো বন্ধুদের বলতেন, “বুড়ো অনেক দিন বাঁচবে, পরে দেখা করব।” তার সেই ‘পরে’ আর আসেনি, যার ফলে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তার দেখা করার ইচ্ছা পূরণ হয়নি এবং তা তার জীবনে এক বিশাল আফসোস হয়ে থেকে গিয়েছিল। তবে বেতারের চাকরি কিছুটা হলেও সেই আফসোস ঘুচিয়ে দিয়েছিল, কারণ সেখানে রবীন্দ্রনাথের গানের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। যার সুবাদে তিনি সারাদিন রবীন্দ্রগীতির মাঝে ডুবে থাকতে পারতেন।