“মেয়ের উপর কুনজর ছিল”- কিশোরীকে ধর্ষণ করে দেহ টুকরো টুকরো করে বিজ্ঞানের শিক্ষক?

প্রায় ২০ দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে এক আদিবাসী স্কুলছাত্রীর খণ্ডবিখণ্ড দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বীরভূমের রামপুরহাটে। এই হাড়হিম করা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ওই ছাত্রীর ভৌতবিজ্ঞানের শিক্ষক মনোজ কুমারকে গ্রেফতার করেছে। পরিবারের অভিযোগ, শিক্ষক ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন করেছে এবং তার দেহ লোপাট করার জন্য টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলেছিল। এই নৃশংসতা শিক্ষকের ব্যক্তিগত আক্রোশ নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
নিহতের পরিবার জানায়, সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রী মনোজ কুমারের কাছে প্রাইভেট টিউশন পড়ত। শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে তার উপর কুনজর রেখেছিল এবং তাকে বিরক্ত করত। এমনকি, তাকে বিয়ে করারও প্রস্তাব দিয়েছিল। ছাত্রীর দিদি পুলিশের কাছে বলেন, ‘মনোজ মাস্টারই আমার বোনকে তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করেছে। আমরা এর ফাঁসি চাই।’ এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ মনোজ কুমারকে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সে নিজের দোষ স্বীকার করে। এরপরই তার দেখানো জায়গা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় দেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৮ আগস্ট মেয়েটি টিউশন পড়তে বেরিয়েছিল, কিন্তু আর বাড়ি ফেরেনি। দীর্ঘ ২০ দিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনও সন্ধান মেলেনি। মনোজের উপর সন্দেহ বাড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করে। পরে পুলিশ তাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সে ওই ছাত্রীকে হত্যা করেছে। তবে দেহ পচে যাওয়ায় ধর্ষণ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা কঠিন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।