‘বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টা করো না’, গর্ভপাত হওয়ার পরেও মহিলা কর্মীকে হেনস্থা ম্যানেজারের! রাগে ফুঁসছে নেটপাড়া

কর্মক্ষেত্রে অমানবিকতা এবং বিষাক্ত পরিবেশের ঘটনা নতুন নয়। তবে সম্প্রতি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রেডিটে এক মহিলার পোস্ট তোলপাড় ফেলেছে নেটপাড়ায়। তিনি ৪০ বছর বয়সী এক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে চরম হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। এমনকি, গর্ভপাতের মতো ব্যক্তিগত মুহূর্তেও তার ম্যানেজার সহানুভূতি দেখানোর বদলে তাকে হুমকি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই মহিলা।
পোস্টে ওই মহিলা জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে তার প্রথমবার গর্ভপাত হয়। সেই ঘটনার ৬-৭ মাস পর তিনি আবার অন্তঃসত্ত্বা হন। কিন্তু তিনি তার ম্যানেজারকে এই খবর জানাননি। কারণ, ম্যানেজার তাকে অতীতে বলেছিলেন, “বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টা করো না, তুমি খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী।” এমনকি, তিনি অন্যদের কাছেও বলেছিলেন যে, ওই মহিলা নাকি বাচ্চা নেওয়ার জন্য পাগল।
ঠিক এই সময়েই ওই মহিলা কোভিডে আক্রান্ত হন। তীব্র জ্বর, কোভিডের জটিলতা এবং একই সঙ্গে গর্ভপাতের যন্ত্রণা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তার জীবনের এই অন্ধকারতম সময়েও ম্যানেজার সহানুভূতি দেখানোর বদলে তাকে বারবার হেনস্থা করতে থাকেন। ম্যানেজার তাকে ক্রমাগত হাসপাতালের ডিসচার্জ সামারি দেখাতে চাপ দিচ্ছিলেন। এমনকি, এইচআর-এর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব থাকায় তিনি সব কিছু জেনেই ছাড়বেন বলে হুমকিও দেন।
এই ঘটনার পর তিনি সংস্থার এক মহিলা সিওও-কে সবটা জানালেও কোনো সুরাহা পাননি। বরং তিনিও কোনো সাহায্য করেননি। ওই মহিলা তার পোস্টে আশা প্রকাশ করে লিখেছেন, “আমি আশা করি, সংস্থাগুলি এই ধরনের বিষয় নিয়ে আরও মানবিক এবং শ্রদ্ধাশীল হবে এবং একদিন এই ধরনের ম্যানেজারদের জবাবদিহি করতে হবে।”
মহিলার এই পোস্টের পর বহু মানুষ তার সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। অনেকেই কর্মক্ষেত্রে ম্যানেজারদের এই ধরনের ‘দাসমালিক’ সুলভ আচরণের নিন্দা করেছেন। একজন ব্যবহারকারী তাকে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং বলেন, “আপনার জীবন এবং সন্তানের চেয়ে চাকরি বড় নয়।” উত্তরে ওই মহিলা জানান, তিনি সেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এবং এখন ১৮ মাসের একটি সুস্থ সন্তানের মা।
অন্য একজন ব্যবহারকারী লেখেন, “অধিকাংশ ভারতীয় ম্যানেজারের সহানুভূতির অভাব রয়েছে। তারা কর্মীদের বিশ্বাস করেন না এবং কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে কোনো ভারসাম্য রাখেন না।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “আমরা ভাবি মহিলারা মহিলাদের পাশে দাঁড়াবেন। কিন্তু দিনের শেষে টাকাপয়সা আর ক্ষমতাই সব। সিনেমায় বা নাটকেই এমনটা হয়, বাস্তবে নয়।”