স্কুলে ‘দাদাগিরি’! ছাত্রদের সামনেই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ঘাড় ধাক্কা, ভাইরাল ভিডিওতে কাঠগড়ায় TMC নেতা

ছাত্রদের সামনেই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্কুলেরই পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বীরেন্দ্র বিদ্যানিকেতনে ঘটেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামনে আসার পর রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত স্কুলের বার্ষিক ভ্রমণের জন্য পড়ুয়াদের কাছ থেকে টাকা তোলাকে কেন্দ্র করে। স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি এবং স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য ত্রিদিব বারুই অভিযোগ করেন, পরিচালন সমিতিকে না জানিয়েই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিলনকান্তি পাল ভ্রমণের জন্য টাকা নিচ্ছিলেন। এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়েই তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ত্রিদিব বারুই প্রধান শিক্ষককে ঘাড় ধাক্কা দিতে দিতে নিয়ে যাচ্ছেন।

আহত প্রধান শিক্ষক মিলনকান্তি পাল বলেন, “উনি মিথ্যা তথ্য লেখা একটি কাগজ নিয়ে এসে আমাকে সই করতে বলেন। আমি সই না করায় অফিসের মধ্যে আমার ওপর চড়াও হন। ঘাড়ে আঘাত করতে করতে আমাকে টেনে নিয়ে যান।” তিনি আরও জানান, অফিসের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট করা হয়েছে, তবে বাইরের ফুটেজটি সামনে এসেছে। মারধরের ফলে হাতে চোট পেয়ে তিনি কাকদ্বীপ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ত্রিদিব বারুই অবশ্য লজ্জিত নন। তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, “উনি (প্রধান শিক্ষক) ভ্রমণের নামে টাকা তুলছিলেন এবং রসিদ চাইলে কাগজ মুড়ে ফেলে দেন। ওই কাগজ তুলে আমি যখন সই করতে বলি, তখন উনিই আমাকে ঠেলে দেন এবং মারতে আসেন। আমি কেবল নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলাম।”

শিক্ষাঙ্গনে এই ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিজেপি রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। বিজেপি নেতা কৌশিক দাস বলেন, “এই ঘটনা প্রমাণ করে তৃণমূল সরকার শিক্ষিত সমাজের পক্ষে নয়। এরা শিক্ষক বিরোধী।” বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও সোশ্যাল মিডিয়ায় এর নিন্দা করে বলেন, “রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এই সন্ত্রাস তৃণমূল কংগ্রেসের আসল চেহারা উন্মোচন করছে।”

অন্যদিকে, কাকদ্বীপের তৃণমূল বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। যদি ত্রিদিব বারুইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে দল তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে। একইসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে।”