পঞ্চায়েতের টাকা কোথায় খরচ হয়েছে? টাকার হিসাব চাওয়ায় সদস্যকে মারধর! কাঠগড়ায় তৃণমূল প্রধান!

পঞ্চায়েতের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়াতেই দলের এক মহিলা সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর ব্লকের চারঘাট পঞ্চায়েতে। এই ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আবারও প্রকাশ্যে এনেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই চারঘাট পঞ্চায়েতে ‘কাটমানি’ নেওয়ার অভিযোগ উঠছিল। অভিযোগ, গত তিন বছর ধরে পঞ্চায়েত প্রধান টুম্পা সর্দার পঞ্চায়েতের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব দেননি। মঙ্গলবার পঞ্চায়েতের বৈঠক চলাকালীন ১৫৬ নম্বর বুথের পঞ্চায়েত সদস্য পিঙ্কি রায় হোড় বিগত তিন বছরের হিসাব এবং পঞ্চায়েতে দুর্নীতির প্রতিবাদ করেন। এই নিয়ে প্রধানের সঙ্গে তার তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। অভিযোগ, তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে প্রধান টুম্পা সর্দার পিঙ্কি রায় হোড়কে মারধর করেন এবং হুমকি দেন।

মারধরের শিকার হওয়ার পর পিঙ্কি রায় হোড় প্রথমে চিকিৎসা করান এবং এরপর মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে স্বরূপনগর থানায় পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। আক্রান্ত পঞ্চায়েত সদস্য পিঙ্কি রায় হোড় বলেন, “পঞ্চায়েতের অ্যাকাউন্ট খালি। কোথায় কত টাকা খরচ হয়েছে, তার কোনো হিসাব নেই। সেই হিসাব চাইতে গিয়েই আমি মার খেয়েছি। আমি বিচার চাই।” তিনি আরও বলেন, “আমি যতবার বলেছি, হিসাব দিন, উনি বলেছেন ‘আমি হিসাব দেব না, যা করার করে নাও’। পঞ্চায়েতে বড় ধরনের দুর্নীতি চলছে বলে আমার মনে হয়। আমি দলকে সব জানিয়েছি এবং দল আমার পাশে রয়েছে।”

এই ঘটনা নিয়ে চারঘাট পঞ্চায়েত প্রধান টুম্পা সর্দারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি স্বরূপনগরের বিজেপি নেতা বৃন্দাবন সরকার। তিনি বলেন, “তৃণমূল প্রচুর টাকা খরচ করে পঞ্চায়েত জিতেছিল, এখন সেই টাকা তুলতে গিয়েই এই ধরনের মারামারি হচ্ছে।”