মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের হুমকি দিয়ে ধর্ষণ! কে এই পাঁশকুড়া হাসপাতালের জাহির আব্বাস?

পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এক স্বাস্থ্যকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে মূল অভিযুক্ত শেখ জাহির আব্বাসকে গত সোমবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ কার্যকারিতা এবং জাহির আব্বাসের অস্বাভাবিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ফেসিলিটি ম্যানেজার পদে থাকা এই ব্যক্তি কীভাবে হাসপাতালের “অলিখিত সুপার” হয়ে উঠেছিল এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীকে ভয় দেখিয়ে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে কর্মীদের ডিউটি বণ্টন, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা এবং নিরাপত্তা – সব কিছুই একটি বেসরকারি সংস্থার নিয়ন্ত্রণে ছিল, যার প্রধান দায়িত্বে ছিল জাহির। স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, এই ক্ষমতাই তাকে বেপরোয়া করে তোলে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় জাহির আব্বাসের একটি নিজস্ব ঘর ছিল, যেখানে বসে সে নিজের প্রভাব বিস্তার করত। এই প্রভাবের কথা স্বয়ং হাসপাতাল সুপার কৌশিক ঢালও স্বীকার করেছেন। অভিযোগ, এই ক্ষমতা ব্যবহার করে জাহির বহু মহিলা কর্মীকে হুমকি দিয়ে হেনস্তা করত এবং তাদের বাধ্য করত তার কথা শুনতে।

বিজেপির অভিযোগ, হাসপাতাল সুপার কৌশিক ঢাল সবকিছু জেনেও কোনো পদক্ষেপ নেননি। এমনকি জাহির আব্বাসের জন্য হাসপাতালের ১৫৭ নম্বর ঘরটি বরাদ্দ ছিল, যেখানে তার “দাদাগিরি” চলত। বিজেপি আরও দাবি করেছে যে ওই ঘরে মধুচক্র বসত এবং সেখান থেকেই জাহির পুরো হাসপাতাল পরিচালনা করত। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, এই ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবেও প্রভাবশালী, যার কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই ঘটনা হাসপাতালের প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাড়বাড়ন্তের এক স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে।