ইলিশের আকাল, পুজোয় বাজার মাতাতে হাজির মায়ানমারের ‘রুপোলি শস্য’, দামে মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

রান্নাপুজোর দিন ইলিশ মাছ কেনা বাঙালির একটি ঐতিহ্য। কিন্তু এ বছর ইলিশের আকালে সেই ঐতিহ্যে ছেদ পড়েছে। বাজারে ইলিশের চাহিদা থাকলেও, জোগান খুবই কম। ফলে আকাশছোঁয়া দামে ইলিশ কিনতে গিয়ে মাথায় হাত পড়েছে মধ্যবিত্তের। উপায় না থাকায় মায়ানমারের ইলিশের ওপর ভরসা করছেন ক্রেতারা।

কেন ইলিশের আকাল?

এ বছর আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা এবং বারবার নিম্নচাপের কারণে জেলেরা সমুদ্রে ইলিশ ধরতে যেতে পারেননি। ফলে লোকাল ইলিশের জোগান প্রায় নেই বললেই চলে। জেলেরা জানিয়েছেন, মরশুমের শুরুতে কিছু বড় ইলিশ ধরা পড়লেও, এখন তাদের জালে মাছ পড়ছে না। এতে একদিকে যেমন জেলেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তেমনই মাছ ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে।

দাম কত?

বাজারে যেটুকু ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ছোট আকারের, ৩০০-৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রতি কেজি ৪০০-৫০০ টাকা। মাছ ব্যবসায়ী দেবাশিস রায় বলেন, “৩০০ গ্রামের ইলিশের দাম ৭০০-৮০০ টাকা প্রতি কিলো এবং ২০০-২৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ৪০০-৫০০ টাকা প্রতি কিলো।”

ডায়মন্ড হারবারের নগেন্দ্র বাজারের মাছ ব্যবসায়ী জনয় হালদার জানান, ১ কেজি ওজনের ইলিশের দাম ১৮০০-২৪০০ টাকা প্রতি কেজি। ৬০০-৮০০ গ্রাম ওজনের মাছের দাম এক থেকে দেড় হাজার টাকা প্রতি কেজি। ৩৫০-৫০০ গ্রাম ইলিশের দাম ৬০০-৮০০ টাকা প্রতি কেজি।

মায়ানমারের ইলিশে ভরসা

এ বছর লোকাল ইলিশের আকাল থাকায়, বাজারের চাহিদা মেটাতে মায়ানমার থেকে প্রচুর ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। তবে সেই ইলিশের দামও বেশ চড়া। হিমঘরে মজুত এই মাছের দাম প্রতি কেজি ১২০০-১৬০০ টাকা।

ইলিশের এমন আকাশছোঁয়া দামের কারণে ক্রেতারা এখন অন্যান্য মাছের দিকে ঝুঁকছেন। ভোলা মাছ, যার দাম প্রতি কেজি ২০০-৩০০ টাকা, বা পমফ্রেটের (৭০০-৮০০ টাকা প্রতি কেজি) চাহিদা বেড়েছে।

মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, “আবহাওয়া খারাপ থাকায় জেলেরা মাছ ধরতে পারছেন না, ফলে ব্যবসায়ীরাও পর্যাপ্ত মাছের জোগান দিতে ব্যর্থ। পুজোর আগে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার ইলিশ ধরার চেষ্টা করা হবে।”