‘বিপর্যয়ের মুখে হিমাচল’, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে চলছে উদ্ধারকার্য, কী বলছে সর্বশেষ রিপোর্ট

হিমাচল প্রদেশে লাগাতার বৃষ্টিপাত এবং ভূমিধসের কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (SDMA)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ জুন থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৪০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ভূমিধস, বন্যা এবং বাড়ি ভেঙে পড়ার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে। বাকি ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে রাজ্যের সড়ক, বিদ্যুৎ এবং জল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। SDMA-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৫৯৮টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি জাতীয় সড়কও অন্তর্ভুক্ত। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুল্লু, মন্ডি এবং শিমলা জেলা।
কুল্লু জেলায় ১৭২টি রাস্তা বন্ধ, যার মধ্যে মানালি-আটল টানেল মার্গ এবং আন্নি-জালোরি হাইওয়ে প্রধান।
মন্ডি জেলায় ২০১টি রাস্তা এখনও বন্ধ।
শিমলা জেলায় ৫৭টি রাস্তা বন্ধ থাকায় গ্রামীণ এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন।
এছাড়াও, ভূমিধস এবং অবিরাম বৃষ্টির কারণে ৫০০টি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার এবং ১৮৪টি পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মন্ডি জেলায় ৩১৪টি ট্রান্সফরমার অকেজো হয়ে পড়েছে এবং শিমলা জেলায় ৪৯টি জল সরবরাহ প্রকল্প বন্ধ থাকায় বহু গ্রামে তীব্র জলের সংকট দেখা দিয়েছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা
রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন জোর কদমে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া রাস্তাগুলো খোলার জন্য ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে লাগাতার ভূমিধস এবং খারাপ আবহাওয়া ত্রাণ কাজকে কঠিন করে তুলছে।
এদিকে, রবিবার কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও রাজমর্গ প্রতিমন্ত্রী অজয় টমটা মন্ডি এবং কুল্লু পরিদর্শন করেছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিরোধী দলনেতা জয়রাম ঠাকুর। জয়রাম ঠাকুর জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের পরিস্থিতি পরিদর্শনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অজয় টমটা এই পরিস্থিতির উপর একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দেবেন, যার ভিত্তিতে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজে আরও গতি আনা হবে।