‘পথের কুকুর’ বলায় আত্মহত্যা! জাপানি সংস্থাকে ৯০ কোটি টাকা জরিমানা আদালতের

টোকিওর কসমেটিকস কোম্পানি ডি-ইউপি কর্পোরেশন (D-UP Corporation) এবং তার চেয়ারম্যানকে এক কর্মীর কর্মস্থলে হেনস্তার পর আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার জন্য জাপানি আদালত ১৫০ মিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৯০ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত এই রায়ে বলেছে যে, কোম্পানির চেয়ারম্যানের খারাপ ব্যবহার এবং কর্মীকে রক্ষা করতে ব্যর্থতার কারণে সতোমি নামের ওই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এই রায়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে এবং অনেকেই মনে করছেন, এটি কর্মক্ষেত্রে নিপীড়নের শিকার হওয়া কর্মীদের জন্য এক নতুন আশার আলো।
২০২১ সালের এপ্রিল মাসে ২৫ বছর বয়সী সতোমি নামের ওই তরুণী ডি-ইউপি কর্পোরেশনে যোগ দেন। তবে কিছুদিনের মধ্যেই তাকে কোম্পানির চেয়ারম্যান মিতসুরু সাকাইয়ের থেকে গুরুতর মানসিক হেনস্থার শিকার হতে হয়। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে, অনুমতি না নিয়ে এক ক্লায়েন্টের সঙ্গে দেখা করার জন্য সাকাই তাকে ‘রাস্তার কুকুর’ বলে অপমান করেন। পরের দিন, তিনি অন্য কর্মীদের সামনেও সতোমিকে আবারও ‘দুর্বল কুকুর জোরে ঘেউ ঘেউ করে’ বলে অপমান করেন। এর ফলে সতোমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং অবসাদে ভুগতে শুরু করেন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তাকে কাজ থেকে ছুটি নিতে হয়। সেই বছর আগস্টে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং এক বছরের বেশি সময় ধরে অচেতন থাকার পর ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা যান।
সতোমির বাবা-মা ২০২৩ সালের জুলাই মাসে জাপানি আদালতে মামলা দায়ের করেন। মে ২০২৪-এ, শ্রম পরিদর্শন দফতর জানায় যে সতোমির মৃত্যু কর্মস্থলের হেনস্তার সঙ্গে সম্পর্কিত, এবং এটিকে একটি কর্ম-সম্পর্কিত দুর্ঘটনা হিসাবে ঘোষণা করা হয়। ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫-এ টোকিও জেলা আদালত এই ঐতিহাসিক রায় দেয়। আদালত চেয়ারম্যান মিতসুরু সাকাইকে অবিলম্বে তার পদ থেকে ইস্তফা দিতে বলেছে। আদালতের এই রায় কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের সুরক্ষা এবং মানবিক আচরণের গুরুত্বকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেছে।