“যৌনাঙ্গে ২৬টি পিন, নখ উপড়ে লঙ্কার গুঁড়ো!”-হানিট্র্যাপে ফাঁসিয়ে দুই যুবককে চরম নির্যাতন

কেরালার পাঠানামথিট্টা জেলায় এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যারা পাশবিক বর্বরতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে। এই দম্পতি হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে দুই যুবককে তাদের বাড়িতে ডেকে আনে এবং অমানবিক নির্যাতন চালায়। তারা যুবকদের যৌনাঙ্গে স্টেপলারের পিন ঢুকিয়ে দিয়েছে, নখ উপড়ে ফেলেছে এবং ক্ষতস্থানে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে অমানবিক অত্যাচার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনাটি পাঠানামথিট্টার চারালকুননু এলাকায় ঘটেছে। অভিযুক্তরা প্রেম সম্পর্ক স্থাপনের অজুহাতে দুই যুবককে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তাদের বাড়িতে ডেকে আনে। সেখানে তাদের আটকে রেখে মারধর করে এবং চরম নির্যাতন চালায়। প্রথম ঘটনাটি ১ সেপ্টেম্বর আল্পুঝার এক যুবকের সঙ্গে ঘটে। তাকে মারাথমোন জংশন থেকে বাড়িতে এনে মারধর করা হয়, তার যৌনাঙ্গে প্রায় ২৬টি স্টেপলার পিন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর নখ উপড়ে ফেলা হয়, তার শরীরে তার দিয়ে আঘাত করা হয় এবং ক্ষতের উপর লঙ্কার গুঁড়ো ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আহত অবস্থায় যুবককে রাস্তার পাশে ফেলে দেওয়া হলে এক স্থানীয় ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এই দম্পতি এক যুবককে দিয়ে তাদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার অভিনয় করিয়ে ভিডিও তৈরি করেছিল এবং সেই ভিডিও দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেলও করে। অন্য আরেক যুবককেও এই দম্পতি একইভাবে নির্যাতন করে। তাকে বেঁধে এমনভাবে মারা হয় যে তার একটি চোখের দৃষ্টি আংশিকভাবে নষ্ট হয়ে যায় এবং তার পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়। তদন্তে নেমে পুলিশ দুই যুবকের কাছ থেকে আইফোন এবং নগদ টাকা লুটের প্রমাণও পেয়েছে। যদিও পুলিশ দম্পতির মানসিক সুস্থতারও পরীক্ষা করছে, তবে যুবকদের বয়ান অনুযায়ী এটি হানিট্র্যাপের পাশাপাশি জাদু-টোনা ও অন্ধবিশ্বাসের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।