মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপেও থমকে রইল না সংঘাত, তৃণমূল কর্মীকে মারধরের পর অস্বস্তিতে দল, তদন্তে পুলিশ

দুর্গাপূজার ঠিক আগে আবারও প্রকাশ্যে এল শাসক দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। পুজোর চাঁদা সংক্রান্ত বিবাদের জেরে মারধরের শিকার হয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মী ও ব্যবসায়ী অমিত সরকার। অভিযোগ উঠেছে, ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তার ওপর হামলা করা হয়। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়লে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কী কারণে এই হামলা?

অমিত সরকারের অভিযোগ, তার কাছ থেকে পুজোর চাঁদা বাবদ ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। প্রথমে লিখিতভাবে ৩ হাজার ও ১ হাজার টাকা চাওয়া হলেও, মৌখিকভাবে আরও ৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এই অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করলেই বিবাদের সূত্রপাত।

অমিতের পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে তার ভাইকে গালিগালাজ করা হয়। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যরা নিচে নেমে এলে হামলাকারীরা রড ও বাঁশ দিয়ে অমিতকে বেধড়ক মারধর করে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার স্ত্রী ও বাবাও গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরাও তৃণমূল আশ্রিত বলে অভিযোগ করেছেন অমিত। জানা গেছে, যে ক্লাবের চাঁদা নিয়ে এই ঘটনা, অতীতে সেই ক্লাবেরই সম্পাদক ছিলেন অমিত। পরে সরে আসায় সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে খোঁজখবর নেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এলাকায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও, এই ধরনের ঘটনা দলের ভেতরে চলমান অন্তর্দ্বন্দ্বকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে, যা পূজার মরশুমে শাসক দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। ইতিমধ্যেই তপসিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।