ত্রিপুরার ফরেনসিক গবেষণায় নতুন দিগন্ত, রাজ্যে শুরু হচ্ছে ওডন্টোলজিতে এমএসসি কোর্স, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

অপরাধ তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ফরেনসিক ওডন্টোলজি বা দন্তবিজ্ঞানের গুরুত্ব তুলে ধরলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। শনিবার গুজরাটের গান্ধীনগরে আয়োজিত ওডন্টোলজি সম্পর্কিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, ত্রিপুরায় ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্স ইউনিভার্সিটি (এনএফএসইউ)-তে ফরেনসিক ওডন্টোলজিতে দুই বছরের একটি এমএসসি কোর্স চালুরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিবর্তিত অপরাধের ধরন ও তদন্তের প্রয়োজনীয়তা

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরন বদলে যাচ্ছে। তাই তদন্তের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নত করা জরুরি। ফরেনসিক ওডন্টোলজিকে ফরেনসিক বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, মৃতদেহের দাঁত পরীক্ষার মাধ্যমে এটি তদন্তে সহায়তা করে এবং বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ প্রসঙ্গে তিনি গান্ধীনগর এনএফএসইউ-এর উপাচার্যের কাছে ত্রিপুরায় এই বিষয়ে এমএসসি কোর্স চালুর অনুরোধ জানিয়েছেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে ত্রিপুরার উন্নয়ন

ত্রিপুরার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে মেডিক্যালের আসন সংখ্যা সীমিত ছিল, এখন সেখানে ৩টি মেডিক্যাল কলেজে আসন সংখ্যা প্রায় ৪০০। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ৮-৯ মাসের মধ্যে একটি সরকারি ডেন্টাল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে, যার আসন সংখ্যা ৬৩।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি জানান, এনসিআরবি’র রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় ত্রিপুরা তৃতীয় স্থানে রয়েছে এবং এটি দেশের অন্যতম শান্তিপূর্ণ রাজ্য। এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পদ্মশ্রী প্রাপক ড. জে এম ব্যাস, গুজরাটের ডিজিপি মনোজ কুমার আগরওয়াল-সহ বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।