যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত উপাচার্যকে সুপ্রিম কোর্টের অভিনব শাস্তি, যে ভুল সারাজীবন তাড়া করে বেড়াবে

যৌন হেনস্থার অভিযোগে অভিযুক্ত পশ্চিমবঙ্গ জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নির্মলকান্তি চক্রবর্তীকে সুপ্রিম কোর্ট এই মামলা থেকে অব্যাহতি দিলেও, এক অভিনব শাস্তি দিয়েছে। শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে এই রায়ের কথা উপাচার্যের জীবনপঞ্জিতে আজীবন উল্লেখ করতে হবে, যাতে তিনি সারাজীবন তার ভুলের জন্য অনুতপ্ত হন।

কী ছিল অভিযোগ?

অভিযোগকারিণী মহিলা জানান, ২০১৯ সালে উপাচার্য হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকে নির্মলকান্তি চক্রবর্তী তাকে কুপ্রস্তাব ও হুমকি দিতে শুরু করেন। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে তিনি উপাচার্যকে তার সঙ্গে একটি রিসর্টে সময় কাটানোর প্রস্তাব দেন। অভিযোগকারিণী তাতে রাজি না হওয়ায় উপাচার্য পেশাগত ক্ষেত্রে তার ক্ষতি করার হুমকি দেন। এর আগে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে তার পদোন্নতি আটকে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মামলা খারিজের কারণ

‘লাইভ ল’-তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পঙ্কজ মিথল এবং বিচারপতি পি বি ভারেলের বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করে দেয় কারণ অভিযোগটি ঘটনার আট মাস পর, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দায়ের করা হয়েছিল। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি রুখতে যে আইন রয়েছে, তাতে তিন মাসের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করার নিয়ম আছে, যা এই ক্ষেত্রে মানা হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

যদিও সুপ্রিম কোর্ট এই মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে, তবে দুই বিচারপতি এই ঘটনাকে সহজভাবে নেননি। তারা বলেন, “এই মামলায় যৌন হয়রানির যে অভিযোগ উঠেছে তা ক্ষমা করে দিলেও অভিযুক্ত যে ভুল করেছেন তা যেন সারাজীবন তাকে অনুতপ্ত করতে থাকে। তাই নিজের জীবনপঞ্জিতে এই রায়ের কথা অভিযুক্তকে লিখতে হবে এবং এই নির্দেশ যাতে মেনে চলা হয় তা ব্যক্তিগত ভাবে তাকেই নিশ্চিত করতে হবে।”

আগে এই অভিযোগ লোকার কমপ্লেন্ট কমিটি (এলসিসি) এবং কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চে খারিজ হয়ে গিয়েছিল, তবে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ একক বেঞ্চের সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়। এরপরই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়।